হবিগঞ্জ জেলার খোয়াই নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের নামে হয়রানি

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

হবিগঞ্জ জেলার খোয়াই নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের নামে হয়রানি

সানডে সিলেট ডেস্ক: রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ : হবিগঞ্জ জেলার খোয়াই নদী সংরক্ষণ ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের নামে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল ম্যাপ অনুসরণ না করেই সনাতন পদ্ধতির ম্যাপ অনুসরণ করে অভিযান চালানোয় জনমনে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এ অভিযান পরিচালনা করে আসছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর ধরে মৃত প্রায় খোয়াই নদী প্রথমে সনাতন পদ্ধতিতে জরিপ কাজ চালানো হয়। পরবর্তীতে ডিজিটাল পদ্ধতিতেও জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়। ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিপ কাজ চালানোর দাবিও ছিল এলাকার সাধারণ মানুষের। কিন্তু ডিজিটাল জরিপের কাজকে তোয়াক্কা না করে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের নামে বৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

জানা যায়, হবিগঞ্জের আল-ফালাহ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরন করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করার পরও তার তিনতলা বিল্ডিংয়ের একাংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস থেকে টেকনিক্যাল লোকবল এনে যে ডিজিটাল ম্যাপ তৈরী করেছে, সেই অনুযায়ী তাদের ভাঙচুর কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে।

হবিগঞ্জের পুরাতন খোয়াই নদের পাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য সীমানা নির্ধারণ নিয়ে অনেক ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রশাসনের সীমানা নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় লোকজন। তারা বলেছেন- নদের দুই পাড়ে ১৯৫৪ সালের এস এ রেকর্ড অনুযায়ী এ মাফজোক হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসন নিজেদের মতো এ মাফজোক চালাচ্ছে। এতে পাড়ের বাসিন্দাদের কেউ লাভবান আবার কেউ ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন।

জেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের খোয়াই নদ ও পুরাতন খোয়াই নদ ব্যবস্থাপক প্রকল্প নামে ২ হাজার কোটি টাকা একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের শহরের পুরাতন খোয়াই নদ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে। অভিযানে শহরের মাসুলিয়া, ইনাতাবাদ, মাহবুবাবাদ ও শায়েস্তাগঞ্জ এলাকার প্রায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা যন্ত্র দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। তবে গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ আছে এ ভাঙার কার্যক্রম।

গত বৃহস্পতিবার সহকারি কমিশনার মাসুদ রানার নেতৃত্বে প্রশাসনের লোকজন স্টাফ কোর্টের এলাকায় নদের জায়গা মাপতে যায়। এসময় ওই এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবী সুজন চৌধুরীকে বলা হয় তার বাসার ৫ ফুট নদের অংশে পড়েছে। এ নিয়ে ওই আইনজীবী চ্যালেঞ্জ করলে পরে ফের মেপে দেখা যায় তিনি নদের জায়গা দখল করেননি। একই এলাকার অপর বাসিন্দা নাসির আহমেদকে বলা হয় তার বাসার জায়গা প্রায় ১৫ ফুট নদের জায়গায় রয়েছে। তিনি এ নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে কয়েক দফা মাপার পর দেখা যায় তার স্থাপনায় জায়গায় অবৈধ দখল নেই।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলার শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন- আমরা প্রথম থেকেই এ উচ্ছেদ অভিযানের আগে নদে দুই পাড় চিন্থিত করণ ও সীমানা পিলার বসানোর কথা বলে আসছি। সেই অনুযায়ী কাজ করলে জেলা প্রশাসনকে হয়তো এখন এতো বিতর্কে জড়াতে হতো না।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ

ই-মেইল :Sundaysylhet@Gmail.Com
মোবাইল : ০১৭১১-৩৩৪২৪৩ / ০১৭৪০-৯১৫৪৫২ / ০১৭৪২-৩৪৬২৪৪
Designed by ওয়েব হোম বিডি