স্পেশাল

‘স্মৃতিময় সত্তর : এইডেড হাইস্কুলের ৭০ব্যাচের পুনর্মিলনী’

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭

‘স্মৃতিময় সত্তর : এইডেড হাইস্কুলের ৭০ব্যাচের পুনর্মিলনী’

সানডে সিলেট ডেস্ক : সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭ : পৌষের কুয়াশার চাদর ভেদ করে আলো ফুটে বের হবার আগেই লাক্কাতুরা চা বাগানের সবুজ গালিচায় বসেছিল তারকার মেলা। তারা সকলেই সিলেটের এইডেড হাইস্কুলের ১৯৭০ সালের এসএসসি উত্তীর্ণ। বর্তমানে বয়সের ভারে নূজ্য সকলেই। পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে চিরচেনা প্রিয়মুখ দেখে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিলেন তারা সকলেই। ফেলে আসা স্মৃতিগুলো স্মরণ করে গল্প কথনে মেতে উঠেছিলেন কেউ। আবার কেউ মেতেছিলেন খেলায়। এভাবেই একে অপরের সাথে পুরনো স্মৃতি হাতড়ে ফের স্মরণ করছিলেন তাদের ক্যাম্পাসের স্মৃতিগুলো।

আজ সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী ‘স্মৃতিময় সত্তর’-শিরোনামের এই পুনর্মিলন অনুষ্ঠানের। পরে বেলুন উড়ানো হয়। শহরতলীর লাক্কাতুরা টি এস্টেট বাংলোয় অনুষ্ঠিত এই সম্মিলনে মিলিত হন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাঙ্গন দি এইডেড হাইস্কুলের ৭০-ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে সম্মিলনে যোগ দিয়েছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মঈন, সাবেক শিক্ষক ডাক্তার মো. আব্দুল জলিল চৌধুরী, সাবেক শিক্ষক মো. ফজলুর রহমান ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক শমশের আলী।

বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের অনুষ্ঠান ঘোষক জান্নাতুল নাজনিন আশার সঞ্চালনায় প্রাণবন্ত পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে আগত সহপাঠি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব আতিকুর রহমান। এর আগে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন তফাজ্জাল হোসেন ইলু এবং পবিত্র গীতা পাঠ করেন দীপক কুমার দেব।

এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং ৭০ ব্যাচের সহপাঠি যারা ইতিমধ্যে ইহলোক ত্যাগ করেছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে স্মারকের মোড়ক উন্মাচন করা হয়।

এরপর শুরু হয় পরিচিতিপর্ব ও স্মৃতিচারণ। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন- সত্তর ব্যাচের শিক্ষার্থী মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. তৌফিক রহমান, সিলেট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, এম এ মালিক হুমায়ুন, শাহ আলম, আব্দুল হামিদ চৌধুরী, জমশেদ আলী, ডা. মোস্তফা শাহ জামাল চৌধুরী বাহার, আব্দুল করিম।

স্মৃতিচারণ পর্ব শেষে শিক্ষকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান এবং ৭০- ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া দুই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে আরো ছিল- খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র।

সবশেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়াদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। পরে সম্মিলন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ইয়াহিয়া আহমদের সমাপনী বক্তব্যে মধ্য দিয়ে ভাঙ্গে এই মিলনমেলা।

আয়োজকরা জানান- স্মৃতিময় সত্তর শিরোনামে এই পুনর্মিলনে দেশে-বিদেশে থাকা ৭০-ব্যাচের ৭১জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এতে অনেক প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এই সম্মিলন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ