স্পেশাল

স্বপ্নদ্রষ্টা ড.আহমদ আল কবির: আমাদের স্বপ্নের ঠিকানা

প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

স্বপ্নদ্রষ্টা ড.আহমদ আল কবির: আমাদের স্বপ্নের ঠিকানা

সানডে সিলেট: সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ : বিশ্বশান্তির প্রতীক জাতিসংঘের ৭৪ তম সম্মেলন হলো। সারা বিশ্বের দেশ প্রধান ও তাদের টিম অংশ গ্রহন করে থাকেন এ সম্মেলনে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা ,ভ্যাকসিন হিরো শেখ হাসিনা নেতৃবৃন্দসহ সম্মেলনে যোগ দেন। এ টিমের অন্যতম আকর্ষণ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী আমাদের জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের স্বপ্নের ঠিকানা , মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ ড.আহমদ আল কবির। অধিবেশনে ড. কবির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার বিষয়ক আলোচনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন । ( শ্রদ্ধা রেখে বলি ) নামটি উচ্চারণ করলেই মনে ধরে প্রিয় কবি স্বামী বিবেকানন্দের কবিতা,
“মানুষ চাই,মানুষ চাই,
তাহা হইলেই সব হইয়া যাইবে।”
আসলে তিনি এমনই একজন মানবিক এবং সফল মানুষ যিনি সবই পারেন, যিনি সবই করেন।

সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্ম নেয়া এই অবিভাবক অনেক পরিচয়ে পরিচিত। একজন নেতা হিসেবে তিনি যে রকম আদশর্বান মানুষ হিসেবে ঠিকই সেরকম মানবিক। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। ,অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে ,উচ্চারিত হয়েছে,
“একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃকতির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা,যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে। ”
তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এবং রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন বলে তাঁর ভাবনায় মানুষ , মানুষ এবং মানুষ । এগিয়ে যান , স্যার । আপনার পেছনে আছে মানুষের ভালোবাসা । শুধু ভালোবাসা ।

এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন ড.আহমদ আল কবির। “আনন্দভুবন” পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে ( ১ সেপ্টেম্বর ,২০১০ ) জানতে চাওয়া হয়েছিল, স্যার আপনার জন্ম এবং বেড়ে উঠার কথা বলেন। শুনা যাক স্যারের জবানিতে-“আমার জন্ম সিলেটের জকিগঞ্জে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে ইছামতি হাইস্কুল থেকে লেটারমার্কসসহ ম্যাট্রিক পাশ করি। আমিই আমার স্কুলে প্রথম লেটার মার্কসসহ ম্যাট্রিক পাশ করি। তারপর ভতর্ি হই সিলেটের মুরারীচাঁদ কলেজে। আসলে আমার কথা বলতে গেলে আগে আমার পরিবারের কথা বলতে হয়। কারণ আমাদের পরিবার বিশেষ করে আমার বাবা ও মা ছিলেন স্বাধীনচেতা মুক্তমনের মানুষ । বাবার কাছ থেকে আমি এমন কিছু গুণ পেয়েছি যা আমার চলার পথে এখনো সহায়ক।”

১৯৭১ সালে ড. কবির একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছেন দেশের জন্যে। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বেশ বর্নাঢ্যময়। ছাত্রজীবন থেকে তিনি ছিলেন রাজনৈতিকভাবে সচেতন। ১৯৬৯ সালের ১১ দফা আন্দোলনের সর্ব দলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জকিগঞ্জ উপজেলার আহবায়ক হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান সামরিক আদালতে যে কয়েকজনের বিচার হয় তার মধ্যে ড. আহমদ আল কবির অন্যতম একজন। ১৯৭১ সালে প্রথমে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘটিত করেন এবংশিলচরের লোহারবন্দ এলাকায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে এসে সরাসরি মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ড. আহমদ আল কবির স্যারের পিতা ডা: তুফাজ্জুল আলী মহান মুক্তিযোদ্ধের সময় পাকিস্তানের সরকারি চাকুরী ছেড়ে মুক্তিযোদ্ধার সংঘঠক হিসাবে কাজ করেণ এবং ২১ নভেম্বর জকিগঞ্জ মুক্ত হওয়ার পর জকিগঞ্জে স্বাস্থ্য প্রশাসকের দ্বায়িত্ব পালন করেন। সিলেটের এম সি কলেজ কে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে ১৯৭২ সালে গঠিত সর্ব দলীয় ছাত্র পরিষদের যুগ্ন সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সর্ব প্রথম সিলেটে এম সি কলেজে যে ছাত্রলীগের প্রতিবাদ সভা (পুকুর পাড়ে) ও মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির, সুলতান মুহাম্মদ মনসুর, ও দিলদার হোসেন সেলিম (বর্তমান বি এন পি নেতা) । জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের বতর্মান সাংসদ আলহাজ্ব হাফিজ আহমদ মুজুমদার এর চার বার নির্বাচনি সমন্নয়কের দ্বায়িত্ব পালন করেন ড. আহমদ আল কবির ও আলহাজ্ব লোকমান উদ্দীন চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ । ২০০৮ এর আওয়ামীলীগের নির্বাচনি ইসতেহারে ভিশন ২০২১ এর অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত এর নেতৃত্বাধীন পরিকল্পনা কমিটির অর্থনীতিবিদ হিসাবে সদস্য ছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত ও ড. আহমদ আল কবির। ২০০৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা ,ভ্যাকসিন হিরো মাননীয় শেখ হাসিনা ,আহমদ আল কবির স্যারকে রুপালী ব্যাংক এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেন। ২০১২ সালে বংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন । আজ পযর্ন্ত দেশের উন্নয়নের নিমিত্তে বঙ্গঁবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জাতীর জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের কাজে নিজেকে সব সময় নিয়োজিত রেখেছেন।

১৯৭৫ সালটি ড. কবির স্যারের কাছে খুবই কষ্টের, খুবই বেদনার। যে কষ্ট আর বেদনার ভার তিনি এখনো বহন করে বেড়ান । মাঝে মাঝে সভা-সেমিনারে এ বেদনার কথা মনে করে নিজ কাঁদেন অন্যকেও কাঁদান। এক সাক্ষাৎকারে ( ১ সেপ্টেম্বর ,২০১০ ) সাংবাদিক জানতে চাইছিলেন, আপনি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর খবর কীভাবে পেলেন ? তখন ড. স্যার বলেছিলেন, চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন আমি মাস্টার্স পরীক্ষা দিই । ভোরবেলা ‘বিবিসি’তে শুনলাম বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যার খবর শুনে আমি দারুনভাবে মর্মাহত হই। কী করবো বুঝে উঠতে পারিনা। দিশেহারা হয়ে পড়ি।

“সীমান্তিক”সিলেটের মানুষের কাছে বেশ পরিচিত এক নাম। উল্লেখ্য, দেশের বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবি উন্নয়ন সংস্থা সীমান্তিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র বিমোচন ও মানব উন্নয়নসহ দেশের জাতীয় উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিতে সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে ছয়টি খাতে কাজ করছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা, সচেতনতা এবং পরিবেশ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। কবির স্যারের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই সংস্থা। শক্তিশালী ভুমিকা রেখে চলেছেন ড.আহমেদ আল ওয়ালী স্যার । কানাডা প্রবাসী অত্যন্ত সজ্জন এই মানুষটি দেশ প্রেমের এক জ্বলন্ত প্রমাণ ও বটে। কানাডায় আস্তা প্রতিষ্টিত এই প্রিয় মানুষ দেশের স্বাস্থ্য খাতে ভুমিকা রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রিয় স্যারের জন্য সীমাহীন ভলোবাসা।

একজন সফল অথর্নীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ সুনাম অজর্ন করেছেন। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্টায়ত্ত রূপালী ব্যংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করে বদলে দিয়েছিলেন ব্যংকের চেহারা। নিয়মিত গবেষণা করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নিয়ে। তিনি বলেন, বংলাদেশ দারুণ সম্ভাবনার একটি দেশ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিককালের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রা প্রচলিত অর্থনৈতিক তত্ত্বের নিরিখে ব্যাখ্যা করা দুরূহ, কেননা এর জন্য বিভিন্ন সূচকের যুগপৎ উত্তরণ ঘটেনি। সীমিত সম্পদের একটি দেশকে সীমাহীন প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌছানো একটি কঠিন চ্যালেণ্জ । সাধারণভাবে আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকগুলো প্রতিবেশী দেশসমূহের তুলনায় বেগমান ও বলিষ্ঠ । কৃষি, শিক্ষা ( বিশেষ করে নারীশিক্ষা ),মা ও শিশুস্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি , সামাজিক নিরাপত্তা বলয় ইত্যাদির পাশাপাশি শিল্প ও কৃষি উৎপাদন সূচকেও বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে যখন বংলাদেশ রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হল সেদিন আমাদের আনন্দের সীমা ছিল না । এখন সেই আয় ৩০ বিলিয়ন ও ছাড়িয়ে গেছে । আগে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়া একটি স্বপ্ন ছিল-এখন তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে বলে সবাই উল্লসিত । প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে অনেক গুণ। এ অগ্রগতি প্রমাণ করে বাংলাদেশ দারুণ সম্ভাবনার একটি দেশ। ড. কবির স্যার খুবই আশাবাদী এ দেশকে নিয়ে।

চিন্তা-ভাবনায় প্রাগসরমান ড.কবির সব সময় প্রাধান্য দেন জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মাটি এবং মানুষকে। তিনি অনেকের আগেই ভাবেন যা পরে ভাবেন অনেকে। মনে পড়ে ভারতের রাজনীতিবীদ কবি গোখলে একবার বলেছিলেন, what bengal thinks today
The rest of India thinks tomorrow । সত্যি স্যার , মাটি ও মানুষ কে নিয়ে যা আজ স্বপ্ন দেখেন অনেকে তা কাল দেখবে । কিন্তু তিনি স্বপ্ন একধাপ এগিয়ে-ই দেখেন। স্বাপ্নিক এই মানুষের ভাবনাকে অভিনন্দন । জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের সর্বসাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে অনেক অভিনন্দন ।

শেষ করতে পারব না , তবুও শেষ করি ( অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ গেছে বলে দূংখিত , স্যার ) একবার কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , স্যার প্যাট্রিক গেডেসকে লিখেছিলেন -“I do not have faith in any new institutions but in the people who think properly, feel nobly, and act rightly “অথর্াৎ ” কোন নতুন প্রতিষ্টানে আমার আস্থা নেই, তবে আস্থা আছে সেই মানুষগুলোর ওপর যাদের আছে সঠিক চিন্তা ,মহান অনুভব এবং যথাথর্ কমর্”। কবিগুরুর জবানিতে যা ফুটে উঠেছে আমাদের প্রিয় কবির স্যার তাই। মানবিক মানুষ হিসেবে খ্যাতির কমতি নেই। এই মানুষটির জন্য আমাদের সীমাহীন ভালোবাসা , অক্ষয় ভালোবাসা। ভালো থাকবেন প্রিয় স্যার । আপনিই তো আমাদের স্বপ্নের ঠিকানা।।

বদরুল আলম
লেখক: গবেষক ও প্রভাষক, তাজপুর ডিগ্রী কলেজ, সিলেট।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ