স্কুলছাত্র রাকিবের মৃত্যু, এক বছরেও উদঘাটন নেই রহস্যের

প্রকাশিত: ২:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২০

স্কুলছাত্র রাকিবের মৃত্যু, এক বছরেও উদঘাটন নেই রহস্যের

সানডে সিলেট ডেস্ক
রাজধানীর মগবাজার ফ্লাইওভারের ওপর রহস্যজনক গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হয় স্কুল শিক্ষার্থী ইফরান খাঁন রাকিব (১৬)।

ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে হত্যা মামলা দায়েরের পর সঠিক বিচার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রাকিবের বাবা দীল মোহাম্মদ খান। এর পক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণও উপস্থাপন করছেন তিনি। তবে তদন্তকারীরা তাঁর অভিযোগের কিনারা করতে পারেননি এক বছরেও।

আজ সোমবার (৬ জুলাই) আলোচিত ঘটনাটির এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে হত্যা মামলাটির বর্তমান তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দাবি করছে, তদন্ত শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। বন্ধুর বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই মৃত্যু হয়েছে রাকিবের। চালকের আসনে বসা বন্ধুর লাইসেন্সও ছিল না। এ কারণে একজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআই’র পরিদর্শক মুজিবুর রহমান বলেন, বিআরটিএ’র মোটর ভেহিক্যাল পরীক্ষায় বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেট কারটি চালানোর ফলে দুর্ঘটনা ঘটে-এমন প্রতিবেদন দিয়েছে। গাড়িটি চালাচ্ছিল রাকিবের বন্ধু সাকিবুর রহমান সাদী। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে সাদী। ওই গাড়িতে সাদী ও রাকিব ছিল। পেছনে অপর গাড়িতে ছিল রাফিন আহমেদ ফাইয়াজ ইমতিয়াজ ওরফে রাফিন, সাবাব,আলামিন ও রাফি।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাড়ি দুর্ঘটনা থেকে রাকিবের শরীরে আঘাত লাগে। ওই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে এই মামলায় সাদীকে একমাত্র আসামি করে চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে। তাকে একমাত্র আসামি করে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তবে রাকিবের বাবা দীল মোহাম্মদ খানের অভিযোগ, গ্রেপ্তার সাকিবুর রহমান সাদীকে রিমান্ডে নিতে পিবিআই চরম গাফিলতি করেছে। আসামিকে রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে শুনানির সময় তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত হননি। যে গাড়িটির দুর্ঘটনায় রাকিব নিহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, সেই গাড়ির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি। এমনকি ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ গায়েব করা হয়েছে। তেজগাঁও জোনের পুলিশ কর্মকর্তারা মামলার এজাহারে পাল্টে দিয়েছেন। তাঁর ছেলের সঙ্গে যারা স্বার্থের কারণে মিশতো তারা অপরাধে জড়িত। ইয়াবা বিক্রির কাজে গাড়িটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় বন্ধুরূপী শত্রুরাই ডেকে নিয়ে রাকিবকে হত্যা করে সড়ক দুঘর্টনার নাটক সাজিয়েছে বলে দাবি দীল মোহাম্মদের।

গত বছরের ৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর খন্দকার গলির ৩৫/৩৬ নম্বর হোল্ডিংসের কল্পছায়া অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সাদা রঙের প্রাইভেট কার নিয়ে বের হয় ইফরান খাঁন রাকিব (১৬)। রাকিব মগবাজারের ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রাকিবই গাড়িটি চালাচ্ছিল। এরপর তার সঙ্গে মিলিত হয় সাদী, রাফিন, সাবাব, জয়সহ ৫-৬ জন।

এদের মধ্যে সাদী মগবাজারের কোনো একটি স্থান থেকে রাকিবের গাড়িতে ওঠে। মগবাজার ফ্লাইওভার দিয়ে বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবের সামনে আসার পর রাকিব নিজেকে অসুস্থ মনে করায় গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসে সাদী। গাড়িটি ফ্লাইওভার থেকে বিজি প্রেসের দিকে নামার সময় সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রাকিবকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। সাদীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে আটক দেখানো হয়।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ

ই-মেইল :Sundaysylhet@Gmail.Com
মোবাইল : ০১৭১১-৩৩৪২৪৩ / ০১৭৪০-৯১৫৪৫২ / ০১৭৪২-৩৪৬২৪৪
Designed by ওয়েব হোম বিডি