স্পেশাল

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন দেশের উজ্বল নক্ষত্র : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন দেশের উজ্বল নক্ষত্র : অর্থমন্ত্রী

সানডে সিলেট ডেস্ক : সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন দেশের উজ্বল নক্ষত্র। শুধু দেশেই নয়, অভিজ্ঞ পার্লাম্যান্টারিয়ান হিসেবে পৃথিবীব্যাপী ছিল সুখ্যাতি । আমাদের সংবিধান প্রণয়নে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এক মাত্র বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ছিলেন এ কমিটির একজন উল্লেখ্যযোগ্য ব্যক্তিত্ব। ৭২’র সংবিধান উচ্চ আদর্শের সংবিধান। এ জন্য আামাদের সংবিধান জগতে গৃহিত হয়েছে।

সুরঞ্জিত সেন এলাকার মানুষদের খুব ভালোবাসতেন। মানুষের মনের ভাষায় কথা বলতে পারতেন। মানুষের মনে কথা সে খুব ভালোভাবে জানতো এবং বুঝতে পারতো। এরকম নেতার অভাব পূরণ হবার নয়।

সুরঞ্জিত সেনের সাথে নিজের জীবনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে অর্থ বলেন – সেনের সাথে আমার দেখা হয়েছিল ৬০’র দশকে। শুনলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন সিলেটী ছাত্র খুব জনপ্রিয়। এরপর স্বাধীনতার পরে আমি যখন দেশে আসি। পরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে সংসদে বিরোধী বক্তব্য রাখলে আমি প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে সুরঞ্জিত, মেনন, ইনুর সাথে আলাপ করি। তখন সুরঞ্জিত সেনকে বলি জীবনে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সকলে দস্তখত করলেও তুমি না করে বড় ভূল করেছিলে, আজ আবার ভূল করোনা, আমার কথা মেনে নেন সুরঞ্জিত।

একান্তে সুরঞ্জিত সেনের কাছ থেকে বক্তৃতার কৌশল জানার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন- মানুষকে বক্তৃতার মাধ্যমে মানুষকে মুগ্ধ করার আকর্ষণীয় গুণ ছিলো, আমি দলীয় রাজনীতিতে নবাগত থাকায় বক্তৃতার কৌশল জেনেছি। সুরঞ্জিত পার্লামেন্টের শ্রেষ্ঠবক্তা। একজন রসিক বক্তা ছিলেন। এরকম কৌশলী বক্তা, উপস্থাপক পার্লামেন্টে আর কেউ নেই।

তিনি বলেন- পার্লামেন্টে গেলে পার্লামেন্টেরিয়ান ভাষা আর রাজনীতির ময়দানে রাজনৈতিক ভাষা প্রয়োগ করতেন। তাঁর জীবন থেকে আমরা অনেক কিছু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি।

শনিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) দিরাই-শাল্লা সম্প্রীতি পরিষদের আয়োজনে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তেন অনুষ্ঠিত শোক সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে অন্যানরা বক্তারা সুরঞ্জিত সেনের বর্ণাঢ্য জীবনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বলেন- তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবীদ। দলীয় লোক যেকোনো দু:সময়ে তাদের জন্য তাঁর বাসার দরজা ছিলো খোলা। এরকম রাজনীতিবীদ এখন বিরল। কাছে সমানুষের প্রতি মমতা ছিলো। তাঁরা সুরঞ্জিত সেনসহ সিলেটের অন্যান্য প্রয়াত রাজনীতিবীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অর্থমন্ত্রী বরাবরে অনুরোধ রাখেন।

সংগঠনের সভাপতি ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও যুবলীগ নেতা রশিদ আহমদ ও দিরাই-শাল্লা সম্প্রীতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রাণকান্ত দাস ও আবুল কাশেমের পরিচালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, ড. জয়া সেনগুপ্ত এমপি, জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ মিশনের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. একে আব্দুল মোমেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, গোলাপগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইকবাল আহমদ চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির সিলেট জেলা শাখার সভাপতি আরিফ মিয়া, ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সিকন্দর আলী, কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, মহানগর আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রঞ্জিত সরকার, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সিটি কাউন্সিলর জগদীশ দাস, আজিজুল হক চৌধুরী মতি, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, রসময় মেমোরিয়েল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক অঞ্জলী প্রভা চৌধুরী,সিটি কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুহিন চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন চৌধুরী, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান এওয়ার মিয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ