সুনামগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে লাগানো হবে সাইনবোর্ডঃ ব্যারিস্টার ইমন

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২০

সুনামগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে লাগানো হবে সাইনবোর্ডঃ  ব্যারিস্টার ইমন

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেছেন, সুনামগন্জ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সনাক্ত করে তাঁদের বাড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি সাইনবোর্ড লাগানো হবে। যে সাইনবোর্ডে সংশ্লিষ্ট বাড়ির বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় লেখা থাকবে। নান্দনিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

 

ব্যারিস্টার ইমন মঙ্গলবার (১ ডিসম্বের) সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ণ সংস্কারকৃত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

 

দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় সভাপতিত্ব করেন মীরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক শেরীন। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল পূর্ণ সংস্কারকৃত ভবনের উদ্বোধন, বঙ্গবন্ধু কর্ণার উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ। সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিদ্দেক আহমদ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আধুনিক ভবনের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ আতাউর রহমান, পাটলি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সিরাজুল হক, যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট কমিউিনিটি নেতা আবদুল ওয়াহিদ, যুক্তরাজ্যের ব্রিকলেন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আকমল খান, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা ডা. মধু সুদন ধর, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শংকর রায়, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তাদির আহমদ মুক্তা, সাংবাদিক আবদুল হাই, মীরপুর ইউনিয়নের মেম্বার মাহবুব হোসেন, মোস্তাক আহমদ ও আবদুস সহীদ, জগন্নাথপুর উপজেলা যুুবলীগের সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম রিপন, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হক চৌধুরী, যুবলীগ নেতা দোলন আহমদ, রাসেল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

 

মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জ জেলার অবদানের কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার ইমন বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই জেলার অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। বিশেষ করে শ্রীরামশীর গণহত্যা স্মরণ করিয়ে দেয় পাকিস্তানিদের বর্বরতা। ওই বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালাতে সহযোগিতা করেছিল আলবদর, আলশামস, রাজাকাররা। এসব রাজাকারকে সনাক্ত করে তাদের নামের তালিকা প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন।

 

ব্যারিস্টার ইমন বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শুরু হয় ষড়যন্ত্র। ওই ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার শুরু হয় ষড়যন্ত্র। এদেশের অগ্রগতিকে দাবিয়ে রাখতে ওই ষড়যন্ত্র হয়েছিল। ১/১১ এর সরকারের পর আবারো জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ক্লান্তিহীন কাজ করছেন। সাধারণ মানুষ তাই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বারবার ক্ষমতায় পাঠাচ্ছেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ করেনি। ষড়যন্ত্রকারীরা একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এদেশের জনগণের প্রতিরোধের মুখে তাদের ষড়যন্ত্র সফল হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে দেশ।

 

সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক শেরীন বলেন, এক বছর হয় তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ইউনিয়নের মানুষের সুখ-দু:খ ভাগাভাগি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী লকডাউনের সময় খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দু:স্থদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন।

 

শেরীন বলেন, ইউনিয়ন অফিসটি ছিল জরাজীর্ণ। প্রবাসীদের অর্থায়নে ইউনিয়ন অফিস আধুনিকায়ন করেছেন। বিদ্যুত ব্যবস্থা স্বয়ং সম্পূর্ণ করেছেন। ইউনিয়ন অফিসটি সিসি ক্যামেরার আওতায় এনেছেন। প্রবাসীদের অর্থায়নে দু:স্থদের মধ্যে শীতের কম্বল বিতরণ করেছেন। ইউনিয়নের উন্নয়নে যেসব প্রবাসী অর্থায়ন করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শেরীন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ