স্পেশাল

‘নিজের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে অত্যাচার চালাচ্ছেন’

প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২০

‘নিজের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে অত্যাচার চালাচ্ছেন’

প্রভাবশালী মহলের ছাত্রছায়ায় নিজের খরিদা ভিটেভূমি থেকে উচ্ছেদের চক্রান্তে লিপ্ত একটি সন্ত্রাসী মহল কর্তৃক জমি দখল, হুমকি-ধমকি ও মানহানিকর সংবাদ প্রচারের অভিযোগ করেছেন সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাকুয়ার পাড় গ্রামের আব্দুল মন্নানের স্ত্রী ওজিফা বেগম।

রবিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে বলেন, স্বামী সন্তান নিয়ে সন্ত্রাসীদের কারণে আমি আজ অসহায়। আমার বর্তমান বাড়িটির খরিদাসূত্রে মালিক আমার স্বামী। এই ভূমির উপর লোলোপ চোখ পড়েছে কাকুয়ার পারের হাশেম মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়ার। তিনি একজন মাদকাসক্ত সন্ত্রাসী। বাড়িটির আগের মালিক তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমার স্বামীর কাছে সেটি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এখন আমরা তার রোষানলে পড়েছি। দীর্ঘদিন থেকে তিনি আমাদের হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আমার বাড়ির সামনের খাস জমি দখল করে সেখানে একটি রেস্টুরেন্ট করেছেন। এতে আমার বাড়ির ইজ্জত আভ্রু আর অবশিষ্ঠ নেই। এর উপর খোলা গোসলখানার আমার বাড়ির মহিলারা গোসলসহ কোন কাজই করতে পারছেন না। কারণ, সেখান থেকে সবকিছু স্পষ্ট দেখা যায়। আফরোজ মিয়াকে তা জানালে তিনি গালিগালাজ ও মারধোরের হুমকি দিয়ে ৪ লাখ টাকা দাবি করেন। এ ব্যাপারে এলাকার সালিশানদের কাছে গেলে তারাও আফরোজ মিয়ার পক্ষে কথা বলেন। ২০১৬ সালে তিনি আমার বাড়ির বিদ্যুতের লাইন কেটেছিলেন এবং তার সন্ত্রাসী দুই ছেলে আহসান হাবিব ও আইয়ুব হাসান বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাকে মারধোর এবং লাঞ্চিত করে। এ ব্যাপারে ঐ বছর এয়ারপোর্ট থানায় একটি জিডিও দায়ের করি।

তিনি বলেন, আফরোজ মিয়ার দখলকরা সরকারি ভূমিটি আমার বাড়ির সামনেই। গত ২৩ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত জেলা হাকিম আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করি। তদন্ত শেষে রিপোর্ট আমার পক্ষে আসে। তদন্তকালে ৩ বার আফরোজকে দলিল নিয়ে যেতে বললেও তিনি তা দেখাতে পারেন নি। তদন্ত কর্মকর্তা রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, জমিটি খাস এবং সেটি আমার বাড়ির সামনেই। এ রিপোর্ট আমার পক্ষে আসায় আফরোজ ও কাকুয়ারপার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য কর্মকর্তারা ক্ষেপে উঠেন। তাদের নেপথ্যে নাটের গুরু হিসাবে আছেন জমির দালাল হিসাবে কুখ্যাত আবু সাইদ আব্দুল্লাহর ছেলে নাজমুল আলম। তিনি নিজে তার আত্মীয়দের মাধ্যমে আমাদের উপর মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের উচ্ছেদ করতে পারলে মোটা অংকে বাড়িটি বিক্রি করার খায়েশেই নাজমুল আফরোজের সাথে হাত মিলিয়েছেন। এদিকে কাকুয়ারপাড় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হিসাবে পরিচিত জহির আলীর ছেলে শাহেদও তাদের সাথে হাত মেলান। তিনি সমিতির নামে খাস জমিটি দখল করতে চেয়েছিলেন। সমিতির নামে সম্ভব না হওয়ায় এখন তিনি মেম্বার নাজিম উদ্দিন ইমরান ও আফরোজকে ব্যবহার করে তা দখল করতে চাইছেন। আমাদের উচ্ছেদ করতে না পেরে আফরোজ, নাজমুল ও শাহেদ এখন ভিন্ন কৌশলে এগুচ্ছেন। তারা অচেনা লোকজনকে দিয়ে মোবাইলে আমার ও আমার স্বামী-সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ৩১ অক্টোবর আমার মোবাইলে ০১৭৯৪২৫২৬০৫ নম্বর থেকে কল দিয়ে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপাওে এয়ারপোর্ট থানায় জিডি করেছি। এছাড়া গত ১ নভেম্বর তারা কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় আমাদের পরিবারের সদস্যদের নামে, এমনকি আমার একমাত্র মেয়ের নামেও অপবাদ দিয়ে নানা মিথ্যা সংবাদ প্রচার করিয়েছে। তাদের ঐসব কুৎসা রটনা ও মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ করে আপনাদের বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাই। আমি এসব সংবাদের নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি। তাছাড়া খাদিমনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নাজিম উদ্দিন ইমরানও ভোটের লোভে তাদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি এয়ারপোর্ট থানার ওপেন হাউজডে-তে আমাদের নামে নানা অপবাদ দিয়েছেন, যা শাহেদ নাজমুল ও আফরোজের শেখানো বুলি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি সেই বক্তব্যেরও নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। তিনি বলেন, মূলত: আমাদের উচ্ছেদ করে বাড়ি দখল করতেই আফরোজ নাজমুল ও শাহেদের এই অত্যাচার। এখন তারা হুমকি দিচ্ছে, যখন তখন আমার ছেলে অপুর দোকানে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য রেখে বা নারী নির্যাতনের সাজানো অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করিয়ে তার জীবনটা ধ্বংস করে দিবে।

ওজিফা বেগম এ ব্যপারে প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিসহ সবার আন্তরিক সহযোগীতা চেয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ