স্পেশাল

সিলেট জেলা ও মহানগর আ.লীগ কমিটি নিয়ে অসন্তোষ

প্রকাশিত: ৭:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

সিলেট জেলা ও মহানগর আ.লীগ কমিটি নিয়ে অসন্তোষ

সানডে সিলেট ডেস্ক

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি শীঘ্রই অনুমোদন পাচ্ছে । ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত জেলা ও মহানগর কমিটি পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রে। ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রস্তাবিত এ কমিটির তালিকা নিয়ে জল্পনা কল্পনা এখন ব্যাপক। বলয় কেন্দ্রিক নেতাদের নামের নিরঙ্কুশ আধিক্য রয়েছে এ তালিকায়। সে কারণে বাদ পড়তে যাচ্ছেন দলের অনেক ত্যাগী ও সিনিয়র পদপ্রত্যাশি নেতারা। সেজন্য কমিটি নিয়ে দেখা দিয়েছে স্নায়ুযুদ্ধ। এতে বিরাজ করছে চাপা অসন্তোষ। এ অবস্থায় কেন্দ্রে ‘বিকল্প কমিটি’ জমা দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। আর জেলা কমিটিতে ত্যাগীদের স্থান দিতে নগরীতে মিছিলও হয়েছে। নানা অসন্তোষ থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রস্তাবিত কমিটির তৃতীয় সহসভাপতি ফয়জুল আনোয়ারের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা মিলে কেন্দ্রের কাছে বিকল্প একটি কমিটি জমা দিয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি লুৎফুর রহমান বয়সের ভারে কাহিল। পড়ন্ত বেলায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। দলশীর্ষ পর্যায়ের বিবেচনায় তিনি পেয়েছেন মূল্যায়ন কিন্তু বয়সের কারনে মাঠ রাজনীতি থেকে অনেক অনেক দূরে তিনি। তাই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খানই এখন সাংগঠনিকভাবে নীতি নির্ধারকের একচ্ছত্র অধিকারী। সেকারণে প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির স্বচ্ছতা বা দল উপযোগী নেতৃত্ব গঠনের ব্যর্থতার দায় তার উপর চাপবে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা।

এদিকে মহানগর কমিটি থেকে বাদপড়া প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘আগের কমিটিতে কে কী ছিলেন সেটা বড় নয়, পদ পেয়ে কে কী করেছেন আমরা সেটা মূল্যায়ন করেছি। যারা দল ও মানুষের জন্য ভালো কাজ করেছেন তাদেরকে প্রস্তাবিত কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। যারা রাজনীতিতে স্বচ্ছ ছিলেন না কেন্দ্র ও বিভিন্ন পর্যায়ের নির্দেশনায় তাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।’

সিলেট আওয়ামী লীগে ৩ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও এখন ৯ মাসে গড়াচ্ছে। দলের কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদকের কঠোর নির্দেশনার পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর জেলার পূর্নাঙ্গ কমিটির প্রস্তাবিত তালিকা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রে। তালিকায় সহ-সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে সর্বশেষ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েছকে। শফিকুর রহমান চৌধুরী কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে সমাদৃত।

জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তুলনামূলক অসন্তোষ কম। তবে পদপ্রত্যাশী ত্যাগীদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার দাবিতে নগরীতে মিছিল হয়েছে। ‘বঞ্চিত আওয়ামী লীগ’-এর ব্যানারে জেলা আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে দেখা না গেলেও ছিলেন অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন। মিছিল থেকে মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শাহরীয়ার কবীর সেলিমসহ বাদপড়া ত্যাগীদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এ ব্যাপারে শাহরীয়ার কবীর সেলিম বলেন, ‘ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ করেও আওয়ামী লীগে ঠাঁই হয়নি। আওয়ামী লীগের গত দুই কমিটিতে আমাকে রাখা হয়নি। বাধ্য হয়ে এখন শ্রমিক লীগের রাজনীতি করতে হচ্ছে। এবারও ষড়যন্ত্র করে আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমার মতো শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের জায়গা না হলেও কমিটিতে সুবিধাবাদীরা ঠিকই জায়গা করে নিয়েছেন।’

তবে কমিটিতে অসন্তোষ নেই দাবি করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, ‘সাবেক কমিটির কোনো নেতাকেই প্রস্তাবিত কমিটিতে বাদ দেওয়া হয়নি। কার্যনির্বাহী ও উপদেষ্টা কমিটিতে তাদেরকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। এমনকি যারা দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ ও বিদেশে অবস্থান করছেন তাদেরকেও সম্মান দিয়ে উপদেষ্টা কমিটিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রম বিবেচনায় গত কমিটির কিছু নেতাকে পদোন্নতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ

ই-মেইল :Sundaysylhet@Gmail.Com
মোবাইল : ০১৭১১-৩৩৪২৪৩ / ০১৭৪০-৯১৫৪৫২ / ০১৭৪২-৩৪৬২৪৪
Designed by ওয়েব হোম বিডি