স্পেশাল

সিলেটে পাথর কোয়ারি খোলার দাবিতে কঠোর কর্মসূচি

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০২০

সিলেটে পাথর কোয়ারি খোলার দাবিতে কঠোর কর্মসূচি

সিলেটের সকল পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে পাথর সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি এবং পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখার কর্মসূচি এসেছে। পাথর আহরণ, বিক্রয় ও বিপণণসহ এই খাতে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে গঠিত ‘বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

 

সোমবার বেলা একটায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। এই সময়ের মধ্যে কোয়ারি খুলে দেওয়া না হলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে সিলেট বিভাগজুড়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি ডাকার হুঁশিয়ারি দেন পরিষদের নেতৃবৃন্দরা।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক আব্দুল জলিল মেম্বার ও সদস্যসচিব মো. নুরুল আমীন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম হাদী ছয়ফুল।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রায় এক বছর ধরে সিলেটের ভোলাগঞ্জ, বিছনাকান্দি, জাফলং ও লোভাছড়া পাথর কোয়ারি থেকে পাথর আহরণ বন্ধ রয়েছে। সিলেটের মূল্যবান খনিজ সম্পদ এই পাথর পুরো বাংলাদেশের নির্মাণশিল্পের অপরিহার্য কাঁচামাল। পরিবেশ রক্ষার অজুহাত দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে মূলত একটি কুচক্রি মহলের ইন্ধনে, যারা স্থানীয় পাথর আহরণ বন্ধ রেখে বিদেশ থেকে পাথর আমদানি করে মধ্যস্বত্ব ভোগ করছে। সিলেটের কোয়ারিগুলো থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে পাথর আমদানি করতে হচ্ছে। এর ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বিদেশ থেকে আনা নিম্নমানের পাথরের দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো ঝুঁকিপূর্ণভাবে নির্মিত হচ্ছে।’

 

গোলাম হাদী ছয়ফুল বলেন, ‘সিলেটের ৪টি কোয়ারি থেকে পাথর আহরণ, বিক্রয় ও পরিবহনের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ জড়িত। এক বছর ধরে কোয়ারিগুলো স্থবির হয়ে পড়ায় প্রায় ৬ লাখ পাথর শ্রমিক বেকার হয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন। কোয়ারিগুলো থেকে পাথর পরিবহন বন্ধ থাকায় সিলেটের পণ্য পরিবহন খাত এখন ধ্বংসের পথে। ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছেন। এ অবস্থায় সিলেটের পাথর আহরণ, বিক্রয় ও বিপণণসহ এই খাতে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে গঠিত হয়েছে বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।’

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কোয়ারিগুলো থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর আহরণের অনুমতি দিতে প্রায় ৩ মাস ধরে এই সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী, খনিজসম্পদ মন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জেলা প্রশাসকসহ সকল পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ভোলাগঞ্জে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ হয়েছে। একাধিকবার মানববন্ধন হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ ডিসেম্বর সিলেটের পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করে ৭২ ঘন্টার মধ্যে পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক কোনোরূপ নির্দেশনা প্রদান করেননি। ফলে ‘বাধ্য হয়ে’ এই সংগঠন নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখতে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনাও রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর হেমার শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে সংগঠনের সভাপতি ফয়জুল ইসলামের দায়ের করা রিট পিটিশনের (নং-২৫৯৯/২০১৭) প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের অনুমতি প্রদানে সিলেটের জেলা প্রশাসকসহসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি রুল জারি করেন, যা পরবর্তীতে বর্ধিত করা হয়। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ২০১৯ সালের শেষ দিকে স্থানীয় প্রশাসন সিলেটের সকল কোয়ারি থেকে সব ধরনের পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। গত ২০ নভেম্বর ওই রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে রিটকারী পুনরায় রিটের নির্দেশনা বর্ধিতকরণে আদালতে দরখাস্ত দেন। পরে হাইকোর্ট বেঞ্চ আগের নির্দেশনা এক মাসের জন্য বর্ধিত করেন।’

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে পাথর উত্তোলনে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞা প্রদান উচ্চ আদালতের রিট পিটিশন-২৫৯৯/২০১৭ এর ‘আদেশ পরিপন্থী ও আদালতকে অবমাননার শামিল’। সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দরখাস্ত দাখিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানানো হয়।

 

গোলাম হাদী ছয়ফুল বলেন, ‘কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে সিলেটের পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ৪৮ ঘন্টা সিলেট জেলায় পাথর সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি এবং পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখবে। ৯ ডিসেম্বর সকাল ৬টা থেকে ১১ ডিসেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। এর মধ্যে কোনো সুফল না এলে ১৭ ডিসেম্বরে ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক সংগঠন, পণ্য পরিবহন, গণপরিবহনের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে সভা করে সিলেট বিভাগজুড়ে অনির্দিষ্টকালের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

 

সংবাদ সম্মেলনে সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার, সাধারণ সম্পাদক আমির উদ্দিন, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক পুলক কবির চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শাব্বীর আহমদ ফয়েজ, ভোলাগঞ্জ পাথর ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক শওকত আলী বাবুল, জাফলং পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি বাবুল আহমদ, সহসভাপতি ইসমাঈল মিয়া, ধোপাগুল পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দ সালেহ আহমদ শাহনাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ, কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা আমিনুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সাব্বির আহমদ, সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি আব্দুস সালাম, সহসভাপতি জুবের আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, কোষাধ্যক্ষ রাজু আহমদ তুরু, নির্বাহী সদস্য শরীফ আহমদ, আলী আহমদ, আব্দুল জলিল, আব্দুল মতিন, বেলাল আহমদ, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জিক লিটু, নির্বাহী সদস্য আকমাম আব্দুল্লাহ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রায়হান আহমদ, জাফলং ট্রাকচালক সমবায় সমিতির সভাপতি ছবেদ মিয়া, সম্পাদক আব্দুর রহিম, কোষাধ্যক্ষ মকরম আলী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ