সিলেটে করোনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেই গণপরিবহনে

প্রকাশিত: ২:৪৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০

সিলেটে করোনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেই গণপরিবহনে

আতিকুর রহমান বাবলু
সানডে সিলেট: মার্চ ২৩, ২০২০ | সোমবার

করোনা ভাইরাস আতঙ্ক বিশ্বজুড়ে। করোনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশব্যাপী বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সেই ধারায় আজ থেকে সিলেটের নিজ উদ্যোগে ব্যবসায়িরা শপিংমল, রেস্টুরেন্ট বিভিন্ন পন্যের দোকান বন্ধ রাখতে শুরু করেছেন সচেতন এই ব্যবসায়িরা। সচেতন হতে গণপরিবহন ও জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু দেশের গণপরিবহনগুলোতে ভাইরাসটি প্রতিরোধের নেই কোন ব্যবস্থা। এতোকিছু হওয়ার পরও সিলেটের গণপরিচহন বন্ধ কেন করা হচ্ছেনা?

গতকাল সিলেটে বিদেশফেরত আইসোলেশনে থাকা এক ষাটোর্ধ্ব নারীর মারা গেছেন। সেই নারীর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরীর মানিকপীর (র.) মাজারের গোরস্থানে তাকে কবর দেওয়া হয়। সেই আতঙ্ক এখন ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মনে।

সিলেটের কদমতলী, টার্মিনাল, কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডসহ বেশ কটি গণপরিবহনে যাত্রী সংখ্যা কিছুটা কমলেও এখনও গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কোথাও জীবাণুনাশক স্প্রে করতে দেখা যায়নি। ফলে গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েই গেল।

সিলেটে বেশকিছু সংস্থা সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি গণপরিহরণগুলো তারা সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছেন প্রতিদিনই। তা কতটুকু রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে যদি না নিজেই সচেতন হন।

আজ সকার থেকে একটু সময় নিয়ে ঢাকা-সিলেট, সিলেট-মংমনসিং, সিলেট-কুমিল্লা, সিলেট-রাজশাহি, সিলেট-হবিগঞ্জসহ বেশ একটি বাস সিলেট থেকে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। প্রতিটি বাস কাউন্টারে ১০-১৫ যাত্রী নির্ধারিত বাসের জন্য অপেক্ষমান রয়েছেন। নেই তাদের করোনা আতঙ্ক, সচেতনা। এসময় এক যাত্রীর ৫০ উর্ধ রফিক মিয়ার সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন-এর আগেও এরকম লোকজন বলেছে লাখ লাখ মানুষ মারাযাচ্ছে কই সেসময়তো আমি বা আমার এলাকার কোন মানুষ মরছে না। আমার হায়াত যতদিন আছে আমি ততদিন বাঁচতে পারব। আলল্লাহ বাচাইলে করোনা কেনে বাগ উপরদিয়ে চলেগেলেও আমি বেঁচে যাব।

বি-বাড়ীয়ায় যাওয়া আরোও এক যাত্রীর সাথে কথা বললে তিনি সানডে সিলেট কে জানান- করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শুধু শুধু আতঙ্ক হাওয়ার কি আছে আমার একটু সচেতন হলেইতো হয়। তিনি বলেন- করোনা কারও হাঁচি বা কাশিতে থাকা জীবাণু শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে আমরা ঐ ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলতেই হয়। এসময় যাত্রীকে সচেতন করতে বলা হয়- আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ লেগেছে এমন কোনও বস্তু স্পর্শের মাধ্যমেও ভাইরাসটি সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির দুই মিটারের মধ্যে থাকা অন্য ব্যক্তিকেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

সিলেটে গণপরিবহণের অবস্থায় এমনিতেই নাজুক, তারপর করোনা আতঙ্ক থেকে সচেতন হচ্ছেনা সাধারণ পরিবণ মালিক। নেই তাদের কোন উদ্যোগ। সারাদেশে করোনা থেকে রক্ষা পেতে গণপরিবহণ পরিহার করার নির্দেশ আসলেও এখন পর্যন্ত সেই নির্দেশ মানছেন না অসচেতন পরিবহণ কোম্পানীর মালক পক্ষের লোকজন। এই অবস্থায় করোনার সংক্রমণ রোধে গণপরিবহন এড়িয়ে চলার পরামরর্শের এক বক্তব্যে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন- এ অবস্থায় গণপরিবহন ব্যবহার না করা ভালো। কারণ গণপরিবহনে মানুষের সমাগম বেশি। মানুষের সমাগম থেকে এই রোগ ছড়িয়ে যেতে পারে।’

বিশ্বব্যাপি গণপরিবহন জীবাণুমুক্ত করার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও বাংলাদেশে এখনপর্যন্ত দেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। সিলেটের বেশ কয়েকটি বাস টার্মিনাল ঘুরে কোথাও করোনা ভাইরাসের প্রাথমিক প্রতিরোধক ব্যবস্থাও চোখে পড়েনি। যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা দেখা যায়নি। তবে কেউ কেউ শুধু মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন। পরিবহনগুলো তাদের আসনের বাইরেও দাঁড়িয়ে যাত্রী বহন করছে।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়র বন্ধের দাবি জানিয়ে আবু বককর শিমাম জানান,  ‘বিনা প্রয়োজনে যেন কেউ গণপরিবহন ব্যবহার না করে, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি যত্রতত্র যাত্রী ওঠা-নামা বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থান ব্যবহারে বাধ্য করতে হবে। তিনি আরও বলেন- গণপরিবহনে যাত্রী ওঠানোর সময় থার্মাল স্ক্যানার মেশিন দ্বারা স্ক্যানিং করা এবং প্রতিটি ট্রিপ শেষে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত পরিবহন জীবাণুনাশক স্প্রে দ্বারা জীবাণুমুক্ত করতে হবে।’ করোনা ভাইরাস আমাদের সচেতন হতে সবচেয়ে জরুরী হয়ে পড়েছে গণপরিবহন এড়িয়ে চলা এবং আমরা সচেতন নাগরিক হিসেবে বলতে চাই গণপরিবহণ যদি বন্ধ না করা হয় দিনে অথবা রাতে একটি বা দুটি বাস ঢাকা-সিলেট, সিলেট-ঢাকা গামি যাত্রীদের পরিবহণ সার্ভিস দিতে পারে। যেহেতু  এটি একটি মহাসড়ক তাই বাসের যাত্রীদের যাত্রা বিরতি না দেয়া, রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে শতাধিক রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সেসব রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে কয়েকটি পরিবহন কোম্পানির বাস বিরতি নিয়ে থাকে। ফলে কয়েক শতাধিক যাত্রী একত্রে এসব রেস্টুরেন্টের গণশৌচাগার ব্যবহার, হোটেলে নাশতা ও খাবার গ্রহণ করে থাকেন। ফলে এই বিরতি এসব স্থানেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ

ই-মেইল :Sundaysylhet@Gmail.Com
মোবাইল : ০১৭১১-৩৩৪২৪৩ / ০১৭৪০-৯১৫৪৫২ / ০১৭৪২-৩৪৬২৪৪
Designed by ওয়েব হোম বিডি