স্পেশাল

সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকার স্কুল-কলেজের অনলাইন ক্লাসে নেই শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: ৮:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২০

সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকার স্কুল-কলেজের অনলাইন ক্লাসে নেই শিক্ষার্থী

সিলেটসহ দেশের ৩২ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির দাবিতে স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় মোবাইল ফোনের নুন্যতম নেটওয়ার্ক না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো করোনার সময়ে অনলাইন ক্লাস নিতে পারছে না উল্লেখ করে এই স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সিলেট-৫ আসনের সাংসদ ও বিটিআরসি চেয়ারম্যান বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে ই-মেইল ও ডাক যোগে।

বুধবার (৪ অক্টোবর) এই স্মারক প্রেরণ করেছেন সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার এলাকার স্থানীয় স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের পক্ষে জুনেদ আহমদ চৌধুরী।

স্মারকলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরো বাংলাদেশকে প্রযুক্তি নির্ভর গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩২টি জেলাই ভারতীয় সীমান্তে অবস্থিত। এসব জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েক কোটি মানুষের বসবাস। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিশাল এই জনগোষ্ঠী ছেড়ে দেশেকে কি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব?

স্মারকে আরো বলা হয়, সিলেটসহ দেশের ৩২টি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট তো দূরের কথা নূন্যতম নেটওয়ার্কও থাকে না। কোথাও কোথাও কথা বলার জন্য নেটওয়ার্ক পেতে হলে এক মাইল পথ হাটতে হয়। করোনার সময়ে দেশের সব স্কুল, কলেজ অনলাইনের মাধ্যম ক্লাস পরিচালনা করেছে উল্লেখ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার হাজারো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিতে পারছে না অনলাইনে ক্লাশ। কিছু কিছু প্রতিষ্টান ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাশ পরিচালনা করলেও সীমান্তবর্তী এলাকায় মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক না থাকায় শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাশে অংশ নিতে পারছে না। ফলে এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা থেকেই যাচ্ছে অন্ধকার যুগে।

সরকারের বিভিন্ন দফতরে পাঠানো এই স্মারকে জুনেদ আহমদ চৌধুরী আরো উল্লেখ করেন, সিলেটের গ্রামীণফোন অফিসে গত ২ বছর থেকে জকিগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার এলাকায় মোবাইল ফোনের একটি টাওয়ার বসানোর আবেদন করে আসলেও আজ অবদি বাস্তবায়ন হয়নি।

অথচ এই মুন্সিবাজারেই রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যন ও সিলেট ৫ আসনের সাংসদ হাফিজ আহমদ মজুমদারের বাড়ি। সেখানে মোবাইলের নুন্যতম কোন নেটওয়ার্ক নেই। সাংসদের বাড়ির দু’শ হাত দূরে স্থানীয় ওয়াজেদ আলী মজুমদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আইসিটি ক্লাসে নিতে পারেন না শিক্ষকরা। যারফলে প্রযুক্তি সম্পর্কে কোন ধারণাই পাচ্ছে না স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু, জকিগঞ্জের ভারত সীমান্তঘেঁষে ভারতীয় মোবাইল ফোনের টাওয়ারের কোন শেষ নেই।

পুরো দেশকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালের আওতায় আনার লক্ষে ও সীমান্তের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান অনলাইন ক্লাশে অংশ নিতে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজারসহ দেশের সকল সীমান্ত এলাকায় মোবাইল টাওয়ার বসাতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ.কে আব্দুল মোমেন, সিলেট-৫ আসনের সাংসদ হাফিজ আহমদ মজুমদার ও বিটিআরসি চেয়ারম্যান জুহুরুল হক বরাবরে ই-মেইল ও ডাক যোগে প্রেরণ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ