স্পেশাল

রায়হান হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, দাবি না মানলে হরতাল

প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২০

রায়হান হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, দাবি না মানলে হরতাল

সানডেসিলেট প্রতিবিদেক:: সিলেট নগরীর বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন আহমদের হত্যায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবরসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের সাথে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার না করা হলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে হরতাল, সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিলেট নগরের বৃহত্তর আখালিয়াবাসী।

১৮ অক্টোবর ( রোববার) দুপুরে নিহত রায়হানের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তার মা সালমা বেগম।

তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। আমি কোনোদিন শুনিনি এসআই আকবর বা অন্য কারো সাথে আমার ছেলে রায়হানের কোনো যোগাযোগ, মারামারি বা অন্য কোনো সমস্যা আছে। আমি এক কথায় আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই, এবং আমার ছেলে হত্যাকারীদের অবিলম্বে ফাঁসি চাই।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক বরাবর আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। দুঃখজনক হলেও সত্য রায়হান হত্যার আসামীদের এখন পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান নিহত রায়হানের মায়ের মামা শওকত হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রায়হান একটি ডাক্তারের চেম্বারে কাজ করতো। কে বা কারা তাকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়। ভোরে তৌহিদের মোবাইল থেকে রায়হান ফোন করে বলে তাকে বাঁচাতে। তিনি জানায় ১০ হাজার টাকা নিয়ে থানায় যেতে। ভোরে রায়হানের চাচা বন্দরবাজার ফাঁড়িতে গেলে তাকে দেখা করতে না দিয়ে সকাল ৯টা পরে আসতে বলেন। সকালে গেলে রায়হানের শরীর খারাপ করেছে এবং মেডিক্যাল যেতে বলে রায়হানের চাচাকে। হাসপাতালে ৭টা ৫০মিনিটে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয় কোতোয়ালি থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমিসি করে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পরে উপ পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) গেলে আমরা আশাবাদী হলেও এখন আমরা মামলার ভবিষ্যত অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি। তাই অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনলে কঠোর আন্দোলনে নামবো আমরা।

রায়হানের মা আরও বলেন, ১০ হাজার টাকার জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করা হবে, আমি বিশ্বাস করি না। নিশ্চয়ই আরও বড় কোনো গ্যাং জড়িত রয়েছে। ১০ হাজার কেন ৫০ হাজার টাকা চাইলেও আমি দিয়ে দিতাম।

তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ বলতে আমি একটাই চাচ্ছি আমার ছেলের হত্যাকারীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হোক। কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিলেও আমার ছেলেকে ফিরে পাবো না। ক্ষতিপূরণ একটাই আমার ছেলে হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলন রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলন তারেক উদ্দিন তাজ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান, কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, নারী কাউন্সিলর রেবেকা বেগম, সাবেক কমিশনার জগদীশ দাশ ও রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহসহ এলাকার মুরব্বিয়ানরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ

ই-মেইল :Sundaysylhet@Gmail.Com
মোবাইল : ০১৭১১-৩৩৪২৪৩ / ০১৭৪০-৯১৫৪৫২ / ০১৭৪২-৩৪৬২৪৪
Designed by ওয়েব হোম বিডি