স্পেশাল

মহানবীর কার্টুন প্রকাশ মত প্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০২০

মহানবীর কার্টুন প্রকাশ মত প্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না: মির্জা ফখরুল

সানডেসিলেটডটকম: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র (কার্টুন) প্রকাশের নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। দলটি মনে করে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কোনো ধর্মনেতার অবমাননা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। রাসুল (সা.)-এর কার্টুন প্রকাশকে বিএনপি তাই একটি গর্হিত অপরাধ বলে গণ্য করে এবং তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের এ অবস্থান তুলে ধরেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, পবিত্র ধর্ম ইসলাম এবং মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ ও তার পক্ষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অবস্থান গ্রহণকে কেন্দ্র করে সারাবিশ্বের ২০০ কোটিরও বেশি মুসলমানসহ সব ধর্ম-বর্ণের কোটি কোটি যুক্তিবাদী ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাষ্ট্র যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চলেছে, বিএনপি তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাসুল (সা.)-এর কার্টুন প্রকাশকে বিএনপি তাই একটি গর্হিত অপরাধ বলে গণ্য করে এবং তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ধর্মীয় সহিষ্ণুতায় বিশ্বাসী বিএনপি মনে করে যে, মহানবী (সা.)-এর কার্টুন প্রকাশ ও তা সমর্থন করা যেমন ধর্মবিদ্বেষকে উসকে দেয়ার মতো অপরাধ, তেমনি প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মানুষ হত্যাও গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে যিনি মানবতার ধর্ম ইসলাম প্রচার করেছেন সেই মহানবী (সা.)-এর দীক্ষাই হোক আমাদের নির্দেশক।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি আরো মনে করে যে, পবিত্র ইসলাম ও মহানবী (সা.)-এর অনুসারীদের আবেগকে আহত করে বিশ্বব্যাপী যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, তার গোটা মানবজাতির ঐক্য ও মিলনের জন্য এক অনতিক্রমনীয় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মূল্যবোধকে স্বীকৃতি দেয়ার মতো মানবিক ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনের জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে উদ্যোগী হতে হবে। কারণ ঘৃণা ও সন্ত্রাস- কোনোটাই বিশ্ববাসীর কাম্য নয়।

মহানবী (সা.)-এর কার্টুন প্রকাশে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ সরকার কোনটাতে প্রতিবাদ জানায় আর কোনটাতে জানায় না– এটি বলা দুরূহ। কারণ আপনারা লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব যেখানে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়, সীমান্তে গুলি করে মারা হয় আমাদের নাগরিকদের, সে বিষয়ে কিন্তু আমাদের সরকার কোনো প্রতিবাদ জানায় না বা প্রতিবাদ করে না। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণের যে ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা বা তাদের যেসব চিন্তা-ভাবনা, সেগুলোকে লক্ষ্য করে বা সেগুলোকে কেন্দ্র করে সরকার কখনও সেই ধরনের স্ট্যান্ড তারা নেয়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমার মনে হয়, সেই কারণে হয়তো তারা (সরকার) এখন পর্যন্ত কোনো রিঅ্যাকশন দেয়নি। সেটিতে তাদের যে চরিত্র তা পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

এসময় তিনি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন-২০২০ এর কড়া সমালোচনা করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন যে আইন সংশোধন করতে যাচ্ছে বা প্রস্তাব করেছে, সেগুলো করলে তা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।

ফখরুল জানান, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন-২০২০ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, যা গতকাল স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গৃহীত হয়। আজ বিকালে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল এই সংক্রান্ত সুপারিশ ও চিঠি ইসিতে দিয়ে আসবে।

তিনি জানান, শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বাধীনতার সূর্বণ জয়ন্তী উদযাপনে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে ১১৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় উদযাপন কমিটি অনুমোদন দিয়েছে বিএনপি।

গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

 

সানডেসিলেটডটকম/পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

 

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ