স্পেশাল

বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে ৩২ তম ব্রিজ উপহার দিলেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত: ৮:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০

বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে ৩২ তম ব্রিজ উপহার দিলেন ব্যারিস্টার সুমন

সানডেসিলেট প্রতিবেদক :: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক প্রসিকিউটর, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী, সমাজসেবক ও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন তার বাবার ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছেন এবার একদম ভিন্নভাবে।

জনসেবার ধারাবাহিক কার্যক্রমে তিনি তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীর দিন উদ্বোধন করলেন নিজ উদ্যোগে ও ব্যবস্থাপনায় নির্মিত ৩২ তম কাঠের ব্রিজ।

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার অন্তর্গত ১ নম্বর মিরাশী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কালেঙ্গা গ্রামের বন্যার্তদের জন্য নির্মিত একটি শিবিরে বসবাসরত দরিদ্র প্রায় দুই আড়াই হাজার মানুষের চলাচলের জন্য তিনি নির্মান করেছেন এই ব্রিজটি।

নিজ বাবার মৃত্যুবার্ষিকীর দিন ব্রিজটি উদ্বোধন করে খুব আনন্দিত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্রিজ উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, আজকে আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী। সেই ১২ বছর আগে আমার বাবা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। সে সময় আমি লন্ডনে ছিলাম ব্যারিস্টারি পড়াশোনা নিয়ে। আমি আমার নিজের বাবার দাফন-কাফন এ থাকতে পারিনি।

আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করে আজ আমি আমার উদ্যোগে নির্মিত ৩২ তম ব্রিজ উদ্বোধন করতে যাচ্ছি।
ব্রিজের সামনে ফলকে তিনি প্রতিপাদ্য লিখেছেন –‘পাকা ব্রিজ এর চেয়ে মনের ব্রিজ অনেক শক্তিশালী, কালেঙ্গা শিবিরবাসিকে আমার ৩২ তম ব্রিজ উপহার’।

ব্রিজটি নির্মানে ব্যারিস্টার সুমনের সাথে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছেন, আমেরিকান প্রবাসী জাকিয়া সোলায়মান নামে একজন নারী। এ বিষয়ে তিনি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন –আমেরিকান প্রবাসী জাকিয়া সোলায়মান নামে আমার এক বোন আমাকে এই ব্রিজটি নির্মানে সহায়তা করেছেন। আমি তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার সহযোগিতা করার জন্য।

তিনি বলেন – আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি যদি কিছু মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারি এটাই আমার জন্য সবচেয়ে আনন্দের বিষয়।

ব্রিজ নির্মানে বিস্তারিত বর্ণনায় তিনি বলেন – আমি যেখানে ব্রিজটি নির্মাণ করেছে সেখানে আসতে গেলে অনেক দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয়। সিলেটের চুনারুঘাট থেকে এই পর্যন্ত হোন্ডায় করে আমার আসতে দুই ঘন্টা সময় লেগেছে। জায়গাটি হলো কালেঙ্গা। যেখানে বন্যার্তদের জন্য একটি আশ্রয় শিবির তৈরি করা হয়েছিল। যারা পাহাড়ের ঢালের একটি খাল পেরিয়ে যাতায়াত করতে পারছিল না। সেখানে একটি ভাঙ্গা সাঁকো ছিল।এখানেই প্রায় ২ হাজার মানুষের কষ্ট দূর করার ব্যবস্থা করা হয়েছে ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে।

তিনি বলেন – আমি মনে করি আমার মতো আরও অনেক লোকই আছেন যাদের সক্ষমতা রয়েছে কিছু করার।তারাও যদি তাদের বাবা ও মায়ের মৃত্যু বার্ষিকীতে যার যার ধর্মীয় রীতি অনুসারে মিলাদ মাহফিল যাই করেন না কেন সাথে সাথে যদি একটি জনকল্যাণমূলক কাজ করেন যাতে মানুষের কষ্ট অনেক কমে তাইলে দেখবেন যে আপনার বাবা-মায়ের আত্মা শান্তি পাবে। তিনি সবাইকে এমন জনকল্যাণমূলক কাজ করার আহবানও জানান।

তিনি বলেন এই ব্রিজটি একবার যেহেতু করেছি যতবার সমস্যা হবে বা ভেঙে যাবে ততোবারই করব অন্তত যতদিন পর্যন্ত পাকা ব্রিজ না করতে পারি।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ

ই-মেইল :Sundaysylhet@Gmail.Com
মোবাইল : ০১৭১১-৩৩৪২৪৩ / ০১৭৪০-৯১৫৪৫২ / ০১৭৪২-৩৪৬২৪৪
Designed by ওয়েব হোম বিডি