বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর; ৪ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আটকঃ মামুনুল ও ফয়জুল করীমের বয়ানে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভাস্কর্য ভাঙচুর

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০২০

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর; ৪ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আটকঃ মামুনুল ও ফয়জুল করীমের বয়ানে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভাস্কর্য ভাঙচুর

কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে রাতের আঁধারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার ঘটনায় জড়িত মাদ্রাসার দুই ছাত্র এবং এই ঘটনায় মদদ দেয়ার অভিযোগে ওই মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের বয়ানে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন।

 

রোববার (৬ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় কুষ্টিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার মুহিদ উদ্দীন। এ সময় অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম নাহিদুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাতসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, ‌স্পর্শকাতর এই ঘটনা ঘটার পর সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশের সব ইউনিটকে কাজে লাগানো হয়। পুলিশ হামলায় অংশ নেয়া দুইজন এবং তাদের মদদ দেয়া দুই শিক্ষককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, দেশের বিরুদ্ধে এবং দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর যে বা যারা আঘাত হানবে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এ ঘটনার পেছনে কারা আছে, কারা ইন্ধন দিয়েছে, নেপথ্যে কেউ জড়িত রয়েছে কি-না পুলিশ সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছে।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় আটক চারজন হলেন- কুষ্টিয়া শহরের জগতি পশ্চিমপাড়া এলাকার ইবনি মাসউদ (রা.) মাদ্রাসার শিক্ষক ও জেলার মিরপুর উপজেলার ধুবইল গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে মো. আল আমিন (২৭), শিক্ষক ও পাবনার আমিনপুর থানার দিয়াড় বামুন্দি এলাকার আজিজুল মণ্ডলের ছেলে মো. ইফসুফ আলী (২৬) এবং একই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে অধ্যয়নরত ছাত্র ও কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শিংপুর গ্রামের সমসের মৃধার ছেলে মো. আবু বক্কর ওরফে মিঠন (১৯), জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর (গোলাবাড়িয়া) এলাকার মো. সামছুল আলমের ছেলে মো. সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদ (২০)। কুষ্টিয়া শহরের একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

 

কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় শনিবার (৫ডিসেম্বর) রাতে কুষ্টিয়া পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দীন বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে যারা অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করবে, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। এজন র‌্যাব, পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কাজ শুরু করেছে। যারা এ ধরনের কাজ করছে বা উসনকানি দিচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

সানডেসিলেটডটকম/ ৬ ডিসেম্বর ২০২০

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ