স্পেশাল

প্রচারবিমুখ রাজনীতিবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির

প্রকাশিত: ২:২৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২১

প্রচারবিমুখ রাজনীতিবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির

মো: সামস্ উদ্দিন সামস্:: রাজনীতিতে ত্যাগ আর ব্রত না থাকলে দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হওয়া যায় না। দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ কখনো ক্ষমতায় যাওয়া বা দলের পদ-পদবীকে বড় হিসেবে দেখেন না। বরং তারা দেশের মানুষের ভবিষৎ নিয়ে ভাবেন, দেশ, এলাকা ও দলের উন্নয়ন অগ্রগতির কথা চিন্তা করেন। তেমনই ত্যাগ এবং দেশপ্রেমের অনন্য এক প্রতিকৃতি সিলেটের গর্বিত সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির।

 

বাংলাদেশের রাজনীতি, স্বাস্থ্যখাত ও শিক্ষাক্ষেত্রে.আহমদ আল কবির ত্যাগ, ব্রত আর দেশপ্রেমের নজির। ড.আহমদ আল কবির শুধুই একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই না, তিনি একজন চিন্তাশীল দার্শনিক, আন্তর্জাতিক মানবউন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, দেশের  অন্যতম শিক্ষাবিদ, একজন প্রথিতযশা মিডিয়াবান্ধব ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবক। দেশের স্বাস্থ্যখাত ও শিক্ষাখাতে অপরিমেয় অবদান রয়েছে ড. আহমদ আল কবিরের। এতোসব প্রতিভার অধিকারী হয়েও, দেশের তরে কাজ করেও প্রচারবিমুখ একজন মানুষ প্রচারবিমুখ রাজনীতিবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির।

ড.আহমদ আল কবির দেশের স্বাধীনতার জন্য ১৯৭১ সালে অস্ত্র কাধে তুলে নিয়ে দেশকে স্বাধীন করতে যেমন ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি বিদেশে পড়াশোনা করেও আবার দেশের টানে ফিরে এসেছেন।

কাজ করেছেন দেশি-বিদেশী বিভিন্ন আম্তর্জাতিক প্রতিষ্টানে। কখনো জাতিসংঘে, কখনো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে   ছেন।

গবেষণামূলক তার বেশ কয়েক গ্রন্থও রয়েছে। তেমনি পেয়েছেন দেশ-বিদেশে নানা সম্মাননা।

ড.আহমদ আল কবিরের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় কৃতিত্ব ছাত্রজীবনে ১৯৬৯ সালে ১১ দফার আন্দোলন বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা পালন করা। এই ১১ দফার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মামলার আসামিও ছিলেন, বিচারও হয়েছিল। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

 

উনার পিতা মরহুম তফজ্জুল আলীও সরকারি চাকুরী ছেড়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসক হিসাবে চিকিৎসা দিয়েছেন। ১৯৭৩ সালে সিলেট সর্বদলীয় সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাকশালে যোগ দিয়ে সবুজ বিল্পবের কর্মী হিসাবে কাজ করার সংকল্প করেন। ১৯৭৮ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কোষে গবেষণা কর্মকর্তা কাজ শুরু করেন। ১৯৮০ সালে জাতিসংঘের জনসংখ্যা কার্যক্রমে প্রোগ্রাম অফিসার হিসাবে কাজ করেন। ২০০৫ সালে থেকে আমেরিকান জনহপস বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যারয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সিলেটে অবস্থান করে দলের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের আওয়ামীলীগ প্রার্থী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত ও জনাব ড. একে আব্দুল মোমেনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসাবে কাজ করেন এবং সিলেট-৫ আসনে জনাব হাফিজ আহমদ মজুমদার এবং সিলেট-৬ আসনে নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্বাচনী কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতিতে নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রাখার ফলে ২০১২ সালে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য নির্বাচিত করেন।

অবদান রেখে চলেছেন দেশের রাজনীতি, সমাজনীতি,অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্যনীতিতে। কাজ করছেন পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে। তাছাড়াও আরটিএম ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা ম্যানেজিং পার্টনার ও প্রধান নির্বাহী। ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের পরিচালক ও সহ-সভাপতি। ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির পরিচালক।রিসার্চ, ট্রেনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টইন্টারন্যাশনালের সভাপতি। সিলেটের আইডিয়াল টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। জাতীয় বেসরকারি সংস্থা সীমান্তিকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া তিনি আমেরিকার জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি মেম্বার।

২০২০ শিক্ষাবিদ ড. আহমদ আল কবীরের ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় অনুমোদন পেয়েছে দেশের প্রথম বেসরকারী কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয় আরটিএম আল-কবির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এমন একজন সৎ, গুণিমানুষ, উচ্চশিক্ষিত শিক্ষাবিদ, জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবিরকে বিভাগীয় শহর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে মূল্যায়ন করলে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ আরো শক্তিশালী হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ