পরিবহন ধর্মঘট: প্রশাসনের সঙ্গে শ্রমিকদের জরুরি বৈঠক ব্যর্থ; সকল পরিবহণে ধর্মঘটের ডাক

প্রকাশিত: ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০২০

পরিবহন ধর্মঘট: প্রশাসনের সঙ্গে শ্রমিকদের জরুরি বৈঠক ব্যর্থ; সকল পরিবহণে ধর্মঘটের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট অঞ্চলের সকল পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে ‘বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’র ডাকা ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারসহ বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেট জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের আহ্বানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত বৈঠকে উদ্ভূত পরিস্থিতির কোনো সমাধান না হওয়ায় ধর্মঘটের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন ‘বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’ নেতৃবৃন্দ। ফলে আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার (২২, ২৩ ও ২৪ ডিসেম্বর ) ভোর ৬টা পর্যন্ত এ পরিবহন ধর্মঘট চলবে।

সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ ও সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম হাদী ছয়ফুল এ বিষয়ে বলেন, ‘সিলেটের মাননীয় জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের ডাকে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে আমাদের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএমসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আমরা বরাবরের মতো আমাদের ন্যায্য দাবিটাই তুলে ধরেছিলাম যে- ১০ লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে সিলেটের সকল পাথর কোয়ারি খুলে দেয়া হোক। পরিবেশ বিধ্বংসী বোমামেশিন নয়, শ্রমিকদের মাধ্যমে আমরা পাথর উত্তোলন করতে চাই। এতে সরকারও যেমন লাভবান হবে, তেমনি দু-বেলা দু-মুঠো ভাত খেয়ে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাঁচতে পারবে।

কিন্তু আজকের (সোমবারের) বৈঠকেও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের মতামত বা দাবিকে গুরুত্ব দেননি। তাই আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। মঙ্গলবার ভোর ৬ টা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত টানা তিনদিন পুরো সিলেট বিভাগে সকল ধরনের পরিবহন ধর্মঘট চলবে।

এম্বুলেন্স, বিদেশ যাত্রী, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্র ও জরুরি ঔষধ  বহণকারী গাড়ি ধর্মঘটের আওতায় থাকবে না।’

উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর ধরে সিলেটের চারটি পাথর কোয়ারি বন্ধ রয়েছে। পরিবেশ ধ্বংসরোধে এ সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় প্রশাসন। তবে পাথর ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোয়ারি খুলে দিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। কিন্তু তা মানছে না প্রশাসন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ