স্পেশাল

নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত চান রাব্বানী

প্রকাশিত: ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত চান রাব্বানী

সানডেসিলেট:: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক  সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত চান ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ দাবি জানান তিনি।

স্ট্যাটাসে রাব্বানী লেখেন, ‘ইনবক্স-টাইমলাইন-কমেন্ট বক্সে একটি টাটকা নিউজ বেশ আলোচিত। গত রাতে ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর সাহেবের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে লালবাগ থানায় মামলা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। মামলার মূল আসামি হাসান আল মামুন। আর নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্বপরিকল্পিতভাবে লালবাগের নবাবগঞ্জ রোডের একটি বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর।

স্পর্শকাতর এই মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে নুর সাহেবের পদ, রাজনৈতিক অবস্থান বা মতাদর্শ যেন কোনো নিয়ামক বা প্রভাবক হিসেবে বিবেচিত না হয়। দ্রুততম সময়ে অভিযোগটির সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, সে দোষী সাব্যস্ত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক আর নির্দোষ হলে দায়মুক্তি পাক, এটাই প্রত্যাশা।’

 

এদিকে এদিকে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আগামী ৭ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার মামলার এজাহার আদালতে আসে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ইয়াসমিন আরা মামলার এজাহার গ্রহণ করে লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসলাম উদ্দিনকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

লালবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসান আল মামুনকে। ধর্ষণে সহযোগী হিসাবে ভিপি নুরকে করা হয়েছে ৩ নম্বর আসামি।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, নাজমুল হাসান, মো. সাইফুল ইসলাম, নাজমুল হুদা ও আবদুল্লাহ হিল বাকি।

জানা গেছে, হাসান আল মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী। বর্তমানে মাস্টার্সের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভলিবল দলের অধিনায়ক এবং হাজী মুহম্মদ মুহসিন হল ফুটবল ও ভলিবল দলের অধিনায়ক।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফুটবল দলেরও অধিনায়ক এই হাসান আল মামুন। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছাত্র আন্দোলন কোটা সংস্কার আন্দোলনেও তার বিশেষ ভূমিকা ছিলো, যা ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক ছাত্রী বাদী হয়ে লালবাগ থানায় মামলা করেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে একই বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান আল মামুন ধর্ষণ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ওসি আরো জানান, মামলার প্রধান আসামি হাসান আল মামুন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক। তার সঙ্গে আরো পাঁচজনকে সহযোগী হিসেবে আসামি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে নুরুল হক নুর রয়েছেন। মামলায় ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে লালবাগের নবাবগঞ্জ এলাকা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান আল মামুন বলেন, মামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। এমন কিছুই হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে কথা বলবো।

তবে মামলার খবর গণমাধ্যমে আসার পর পরই ফেসবুক লাইভে আসেন ডাকসু ভিপি নুর। মামলার বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না এবং বাদী সেই নারীকেও তিনি চেনেন না বলে দাবি করেন ভিপি নুর। মামলাটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছেন তিনি।

লাইভে নুর বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো মেয়ে লালবাগ থানা নাকি লালবাগ কেল্লায় মামলা করেছে, এগুলো আমি জানি না। বিশেষ করে আমাদের নামে এর আগেও অনেক মামলা রয়েছে। এইসব স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছি, ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছি সেখানে মামলা হবে না, এটা অস্বাভাবিক। মামলা এক না শতাধিক হবে।

 

 

সূত্র-পূর্বপশ্চিমবিডি

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ

ই-মেইল :Sundaysylhet@Gmail.Com
মোবাইল : ০১৭১১-৩৩৪২৪৩ / ০১৭৪০-৯১৫৪৫২ / ০১৭৪২-৩৪৬২৪৪
Designed by ওয়েব হোম বিডি