স্পেশাল

ধর্ষণের অভিযোগকারী ঢাবি ছাত্রীকে হুমকি দেওয়ার ‘প্রমাণ পেয়েছে’ পুলিশ

প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০২০

ধর্ষণের অভিযোগকারী ঢাবি ছাত্রীকে হুমকি দেওয়ার ‘প্রমাণ পেয়েছে’ পুলিশ

সানডেসিলেট ডেস্ক:: ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলাকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে বিষয়টি চেপে না গেলে চরিত্র হননের হুমকি দেওয়ার ‘প্রমাণ’ পেয়েছে পুলিশ।

এই মামলায় গ্রেপ্তার নূরের অপর দুই সহযোগী সাইফুল ইসলাম ও নাজমুল হুদাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগের কর্মকর্তারা। রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক।

দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য পাওয়া গেল- জানতে চাইলে ডিবির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার রাজিব আল মাসউদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল ও নাজমুলের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আর পুলিশ তদন্ত করেও কিছু তথ্য বের করেছে। মামুনের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর সম্পর্কের বিষয়টি যে তাদেরকে জানিয়েছে, তার সত্যতা পাওয়া গেছে।

“মূলত নির্যাতিত ওই শিক্ষার্থী তাদের কাছে বিচার দিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টিতে তারা গুরুত্ব দেয়নি।”

নূরদের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ দুই দফায় তাকে ‘ধর্ষণ করেছে’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। পরে এর প্রতিকার চাইতে নূরসহ তাদের অন্য সহকর্মীদের কাছে গেলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় বলেন তিনি।

সোশাল মিডিয়ায় চরিত্র হননের হুমকির ওই অভিযোগের ‘সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট আরেকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ফেইসবুকে তাদের ১.২ মিলিয়ন সদস্য রয়েছে এবং একটা লাইভ করলে তার সব মান-সম্মান চলে যাবে বলে মেয়েটিকে হুমকি দেওয়া হয়।

“এক পর্যায়ে মেয়েটির বিরুদ্ধে অনলাইনে কুৎসা রটানোর জন্য গ্রেপ্তার সাইফুল, নাজমুল হুদা এবং মামলার আরেক আসামি আবদুল্লাহিল বাকিকে কাজে লাগানো হয়।”

মেয়েটি যখন প্রতিকার চেয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন, সেই সময় একটি রেস্তোরাঁ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আসামিদের কয়েকজনের সঙ্গে তার দেখা হয় বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্ট আরেকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “দুইজনের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো এক রেস্টুরেন্টে এবং হলে তাদের কথা হয়েছে, সেগুলোর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যোগাড় করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া কোন কোন ডিভাইস থেকে তাদের মধ্যে কথা বা চ্যাট হয়েছে সেসব তথ্যও সংগ্রহের কাজ করা হচ্ছে।”

ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তাদের গ্রেপ্তারের সময় একটি মেসে অভিযান চালাতে গিয়ে দেখা যায়, কারও মোবাইলে সিম নেই। সবাই ইন্টারনেটের মাধ্যমে কথা বলছে, চ্যাট করছে, যোগাযোগ করছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তরের ওই ছাত্রী গত ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালবাগ ও কোতোয়ালি থানায় নুরুল হক নূর ও তার পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা করেন।পরে শাহবাগ থানায় আরেকটি মামলা করেন ‘সাইবার বুলিংয়ের’ অভিযোগে।

লালবাগের মামলায় প্রধান আসামি করা হয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হাসান আল মামুনকে, যিনি এতদিন ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। দ্বিতীয় মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগকে। নুরুল হক নূরসহ সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা ও কর্মী আবদুল্লাহ হিল বাকিকেও সেসব মামলায় আসামি করা হয়।

মেয়েটির অভিযোগ, একই বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মী হওয়ায় এই পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের সঙ্গে তার ‘প্রেমের সম্পর্ক’ হয়। সেই সম্পর্কের জের ধরে ৩ জানুয়ারি লালবাগের বাসায় নিয়ে তাকে ‘ধর্ষণ করেন’ মামুন। তখন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ তার ‘পাশে দাঁড়ান’। চিকিৎসায় সহায়তা করার পর মামুনকে খুঁজে পেতে সাহায্যের কথা বলে চাঁদপুরে নিয়ে ফেরার পথে নাজমুল সোহাগও লঞ্চের মধ্যে তাকে ‘ধর্ষণ করেন’। পরে ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি নূরসহ তাদের অপর সহকর্মীদের কাছে গেলে প্রথমে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও পরে ‘বাড়াবাড়ি করলে চরিত্রহননের’ ভয় দেখান।

এই মামলায় গত রোববার রাতে দুই আসামি সাইফুল ইসলাম ও নাজমুল হুদাকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, সে সময় তাদের আরও তিন সহকর্মী ছাত্র অধিকার পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহরাব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ মাহমুদ ও কর্মী আব্দুল্লাহ হিল বাকিকে ধরে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছিলেন নুরুল হক নূর।

“তারা যদি নিরাপদে থাকত তাহলে একটা ফেইসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে হলেও জানাত। আমার মনে হয়, তাদের গুম করা হয়েছে। কারণ গতকালও ওই দুজনকে (সাইফুল ও নাজমুল) বাসা থেকে তুলে নিয়ে পরদিন গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

“আর আবদুল্লাহ হিল বাকিকে (মামলার আসামি) পুলিশ ধরে নেয়নি বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে তিনি কোথায় আছেন তা আমাদের জানা নেই।”

মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে উপ-কমিশনার রাজিব আল মাসউদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “এরইমধ্যে এ ঘটনার বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আরও তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে। সবাইকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।”

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ

ই-মেইল :Sundaysylhet@Gmail.Com
মোবাইল : ০১৭১১-৩৩৪২৪৩ / ০১৭৪০-৯১৫৪৫২ / ০১৭৪২-৩৪৬২৪৪
Designed by ওয়েব হোম বিডি