স্পেশাল

দি ব্রান্ড নেইম অব পলিটিক্স ইজ ড. কবির

প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৯

দি ব্রান্ড নেইম অব পলিটিক্স ইজ ড. কবির

সানডে সিলেট: রবিবার, ০৩ নভেম্বর ২০১৯ : রাজনীতির দুনিয়ায় অবিশ্বাস্য এক প্রতিভার অধিকারী আমাদের প্রিয় ড.আহমদ আল কবির স্যার। আমরা বলি, ডাইনামিক লিডার। স্যার, আপনিই তো জাতীয় রাজনীতির ( বিশেষ করে সিলেটের রাজনীতির ) অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। আপনি বিশ্বাস করেন রাজনীতি মানুষের জন্য, মানবতার জন্য, সবর্োপরি দেশ ও জাতির জন্য। বিনিময়ে আছে শুধু ভালোবাসা , মানুষের ভালোবাসা ।’Poet of Politics’ খ্যাত জাতির জনক বঙ্গঁবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বাস করতেন রাজনীতি মানুষের জন্য। দেশ এবং জনগনের জন্য। তাইতো ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’পড়ার সময় চোখ আটকে গিয়েছিল যে চরণ তলে-‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃকতির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা,যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’ আপনারও ভাবনা জগতে মানুষ আর বিনিময়ে মানুষের ভালোবাসা । ভালো লাগে । মানুষ ভালোবাসে আপনাকে এবং আপনার ব্রান্ড’কে।

বিবরণ
জন এফ কেনেডি’র কথা মনে পড়ছে । তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম রাষ্ট্রপতি। ফুল নেইম জন ফিট্‌জেরাল্ড কেনেডি হলেও JFK নামে পরিচিত ( তিনি ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৬৩ সালে নিহত হওয়ার আগে পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। দিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে Motor Torpedo Boat PT-109 এর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ) তাঁর বিখ্যাত একটি উক্তির কথা বলি- “ask not what your country can do for you, ask what you can do for your country.” ( আপনার দেশ আপনার জন্য কী করতে পারে তা জিজ্ঞাসা করবেন না,আপনি নিজের দেশের জন্য কী করতে পারেন তা জিজ্ঞাসা করুন ) ড.আহমদ আল কবির ও এই মতবাদ বিশ্বাস করতেন মনেপ্রাণে। তিনি দেশকে উজাড় করে দিয়েছেন। অবদান রেখে চলেছেন রাজনীতি, সমাজনীতি,অর্থনীতি এবংস্বাস্থ্যনীতিতে। কাজ করছেন পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে। তাছাড়াও আরটিএম ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা ম্যানেজিং পার্টনার ও প্রধান নির্বাহী। ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের পরিচালক ও সহ-সভাপতি। ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির পরিচালক। রিসার্চ, ট্রেনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি। সিলেটের আইডিয়াল টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। জাতীয় বেসরকারি সংস্থা সীমান্তিকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া তিনি আমেরিকার জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি মেম্বার। স্যার ,সিলেটবাসী আপনার অবদানে মুগ্ধ এবং কৃতজ্ঞ। প্রতিদান শুধু ভালোবাসা আর ভালোবাসা ।

একজন দেশ প্রেমিক হিসেবে কবির স্যারের দেশাত্ববোধের মোটেই ঘাটতি নেই । দেশকে নিয়ে স্যারের স্বপ্নের কথা শুনেছি। এ স্বপ্ন যে তিনি এখন দেখেন আগে দেখেননি। এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। ১৯৭১ সালেও তিনি দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন। সে সময় তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন। নিয়েছিলেন প্রশাসনের দায়িত্বও। স্যারের জবানিতে একটু শুনি সে সময়ের কথা, ” ৬ জুন পাকিস্তানিরা আমাকে ধরার জন্য আসে। তখন শরীরে কাদা মেখে ধানের ভাড় কাঁধে নিয়ে তাদের ঠিক মাঝখান দিয়ে হেঁটে চলে আসি। তারা আমাকে চিনতে পারেনি। আমাদের সাধারণ শ্রমিক ভেবে নিয়েছিল। এই স্মৃতি কখনও ভুলতে পারব না। এরপর শিলচরে লোহার বন্দ এলাকায় আমাদের স্পেশাল কোসর্ে ট্রেনিং হয়। পরবতর্ী পর্যায়ে ৪ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সাব সেক্টরে যুদ্ধ করি। ২১ নভেম্বর জকিগঞ্জ এলাকা মুক্ত হয়। ২৩ নভেম্বর দেওয়ান ফরিদ গাজীর নেতৃত্বে বেসামরিক প্রশাসন সৃষ্টি হয়। বাবা স্বাস্থ্য প্রশাসক হন। বিদেশি সাংবাদিকেরা আসছিলেন। তাদের সামনে আমাদের কর্মকান্ড তুলে ধরার প্রয়োজন পড়ে।আমরা যারা ফ্রন্টে ছিলাম তাদের কয়েকজনকে ফিরিয়ে আনা হয়। এলাকার দায়িত্ব নিলাম আমরা কয়েকজন প্রশাসনের দায়িত্বও নেই।
শেষ করি মাদার তেরেসা (১৯১০-১৯৯৭) কে স্মরন করে –
“The fruit of silence is prayer
The fruit of prayer is faith
The fruit of faith in love
The fruit of love is service
The fruit of service in peace ”

নীরবতাই প্রাথর্না , প্রাথর্নাতেই বিশ্বাস জন্মায়, নিবিড্ বিশ্বাস ভালোবাসার উৎস, গভীর ভালোবাসাই সেবার ভিত্তি , সেবাতেই শান্তি। আমার এবংআমাদের বিশ্বাস আপনার প্রতি এবং আপনার ব্যক্তিত্বের প্রতি। ভালোবাসি আপনাকে, ভালোবাসি আপনার ব্যক্তিত্বকে। আপনি-ই দি ব্রান্ড নেইম অব পলিটিক্স । ( সংক্ষেপিত )

বদরুল আলম
লেখক: গবেষক ও প্রভাষক, তাজপুর ডিগ্রি কলেজ, সিলেট।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ