জনপ্রিয়তার র্শীষে ছিলেন সাবেক মেয়র কামরান: তৃণমূলে বিষাদের সুর

প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

জনপ্রিয়তার র্শীষে ছিলেন সাবেক মেয়র কামরান: তৃণমূলে বিষাদের সুর

বাপ্পা মৈত্র: শনিবার, ২০ জুন ২০২০ : সাবেক মেয়র কামরানকে বলা হতো সিলেটের গণমানুষের নেতা। ‘নগরবাসীর প্রিয় নাম, বদরউদ্দিন কামরান’-এমন স্লোগানও দিতেন অনুসারীরা। বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মুত্যুর মধ্য দিয়ে সিলেট আওয়ামীলীগের উজ্জল রাজনীতির একটি অধ্যায়ের অবসান হলো। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সিলেটে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে ভোটের রাজনীতির মাঠে মিষ্টভাষী কামরান সবার কাছে নিজের সুন্দর আচরণের মাধ্যমে জনপ্রিয়তার অনন্য নজির গড়েছিলেন যা সিলেটের গ-ি ছাড়িয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। এক কথায় সিলেট আওয়ামীলীগে কামরান ছিলেন জনপ্রিয়তার র্শীষে। তাই বলা হতো সিলটেবাসীর প্রিয় নাম, বদরউদ্দিন কামরান। সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র কামরান নগরবাসীর কাছে ‘মেয়র’নামে পরিচিত ছিলেন। এই জনপ্রিয় নেতার মৃত্যুতে সিলেটের তৃণমূল আওয়ামীলীগের কর্মীদের মধ্যে বইছে বিষাদের সুর।

 

সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে তৃণমূল কর্মীরা আসতেন কামরানের বাসায়। কামরান আওয়ামীলীগ ছাড়াও অন্য দলের মানুষদের কাছেও সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। সিলেটের যেকোনে নির্বাচনে দলের জন্য কামরান ছিলেন সব সময় নিবোদিত প্রাণ। কামরান দীর্ঘ তিন দশক সিলেট শহর ও পরবর্তীতে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা হয়েও দলের প্রয়োজনে পুরো সিলেট বিভাগ চষে বেড়িয়ে ছিলেন। প্রত্যেক জাতীয় নির্বাচনে সিলেটের বিভিন্ন আসনের দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সরব ছিলেন। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনে দলীয় প্রর্থীদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। কামরানের জন্ম ১৯৫১ সালে। ১৯৬৯ এর উত্তাল সময়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকা অবস্থায় তৎকালীন সিলেট পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কমিশনার নির্বাচিত হয়ে রীতিমতো চমকে দেন। সেই থেকেই সিলেট পৌরসভার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েন কামরান। টানা ১৫ বছর সিলেট পৌরসভার কমিশনার ছিলেন। এরপর কিছুদিন প্রবাসে থাকায় একবার নির্বাচন থেকে বিরত ছিলেন। ফিরে এসে ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে পৌরসভা থেকে সিলেট সিটি করপোরেশন হলে মেয়রের দায়িত্ব পান কামরান।

২০০৩ সালে নির্বাচন সিলেট সিটি করপোরেশন গঠিত হলে, প্রথম নির্বাচিত মেয়র হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তিনি। ২০০৮ সালে কারাস্তরীণ অবস্থায় নির্বাচনে লড়ে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। যদিও পরবর্তীতে ২০১৩ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও মেয়র নির্বাচিত হতে পারেননি। ১৯৮৯ সালে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিলেটের আওয়ামী রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে আসেন কামরান। ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৫ ও ২০১১ সালে গঠিত কমিটিতে পর পর দুবার মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। সবশেষ ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি মহানগর সভাপতির দায়িত্ব হারান। সবশেষ দুটি কাউন্সিলে কামরান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। সোমবার ভোরে (১৫ মে) জনপ্রিয় এই নেতার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সিলেটে আওয়ামী লীগের রাজনীতির একটি উজ্জল নক্ষত্রের অবসান হলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সর্বশেষ

ই-মেইল :Sundaysylhet@Gmail.Com
মোবাইল : ০১৭১১-৩৩৪২৪৩ / ০১৭৪০-৯১৫৪৫২ / ০১৭৪২-৩৪৬২৪৪
Designed by ওয়েব হোম বিডি