ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে পিতার সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ২:২৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২০

ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে  পিতার সংবাদ সম্মেলন

সানডে সিলেটঃ
বাবার কাঁধে ছেলের লাশ কতই যে মর্মান্তিক, তা কেবল যার হারায় সেই বুঝে। তেমনী ছেলেকে হারিয়ে ডুকরে কাঁদছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঘাগটিয়া আদর্শগ্রামের নাছির উদ্দিন। তার চাওয়া কেবল একটাই ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে ন্যায় বিচারের আশায় সংবাদ সম্মেলন করে ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানিয়ে বলেন, গত ৩ মার্চ বেলা ১১টায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে হত্যা চেষ্টা করে। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। তার আর্তচিৎকারে ছোট ছেলে শাহিদ নুর ঘটনাস্থলে গেলে তারই ভাতিজা গোলাম কাদিরসহ তার সহযোগীরা পেটে ছুরিকাঘাত করে খুন করে। গুরুতর অবস্থায় তিনিও বশ কিছুদিন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ জন্য ছেলের দাফন কাফনে অংশ নিতে পারেননি। এ যন্ত্রণা তাকে কুঁড়ে খাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাছির উদ্দিন বলেন, ‘ছেলের হত্যাকারী এলাকার মৃত নবীকুলের ছেলে গোলাম কাদির (২২) তার সৎ বোন ইয়াছমিন ও তাছলিমার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মুরব্বী হিসেবে তারা বিচার নিয়ে আমার কাছে আসে। তার বোনদের ভাগের প্রাপ্য জায়গা বুঝিয়ে দিতে গেলে সে প্রতিপক্ষ মনে করতে থাকে।
নাছির উদ্দিন বলেন, গত ৩ মার্চ সকালে গোলাম কাদির ঘটনাস্থলে নিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলেন, আমার ছেলে নাকি তার ঘর ভাঙচুর করেছে। তার খবওে সঙ্গীয় কালা মিয়াকে নিয়ে ঘটনাস্থল ঘাগটিয়া আদর্শগ্রামে জাদুকাটা নদী সংলগ্ন গোলাম কাদিরের বাড়ির সামনে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন তথা মামলার আসামিরা হাতে রাম দা, ধারালো ছুরি, লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ বিভিন্ন ধরণের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার উপর অতর্কিত হামলা করে। তখন প্রতিপক্ষের শহিদুল ইসলাম গালি দিয়ে বলে, ‘শালার বেটারে খুন করিয়া ফেল।’ তার কথার সঙ্গে সঙ্গে আসামিদের সকলে এলোপাতাড়ি মারপিঠ করে। তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে বিবাদি দ্বীন ইসলাম দীনু ও তাওহীদের সহায়তায় বিবাদি শহীদুল ইসলাম তার হাতে থাকা হাতে থাকা ছুরি দিয়ে তার বুকে ও নাভির নীচে ঘাই মারে। এতে গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন তিনি।
নাছির উদ্দিনের আর্তচিৎকারে তার ছেলে শহিদ নুর (১৭) ঘটনাস্থলে গেলে গোলাম কাদিরের হাতে থাকা ছুরা দিয়ে শহিদ নুরের বাম পায়ের উরুতে ঘাই মারে। এতে আমার ছেলে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং ক্ষতস্থান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এমতাবস্থায় সাক্ষিগণসহ স্থানীয়রা এগিয়ে আসতে থাকলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহতাবস্থায় তাকে ও ছেলে শহিদ নুরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার ছেলে শহিদ নুরকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি প্রেরণ করা হয়।
খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আমার ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নাছির উদ্দিন জখমপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় বড় ছেলে গোলাম নুর বাদি হয়ে মামলা নং-২ (৩) ২০২০) দায়ের করে। মামলায় একই এলাকার মৃত নবীকুলের ছেলে গোলাম কাদির (২২), নুর সালামের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৮), সহোদর দ্বীন ইসলাম দ্বীনু (৩৫), তাওহিদ (৩২), হেফাজুল (৪৬) ও আজহার মিয়া (২৬) এবং উপজেলার টেনাটুনিয়া গ্রামের সুজাফর আলীর ছেলে পারভেজ মিয়া (৪১)। এছাড়া অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জনকে মামলায় আসামি করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি গোলাম কাদিরকে ঘটনার পরদিন ৪ মার্চ গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার ভায়রা মাসুকের বাড়ির পাশের ডুবা থেকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরা উদ্ধার কওে পুলিশ। কন্তু ঘটনার চার মাস অতিবাহিত হতে চললেও অন্য আসামিদের গ্রেফতারের কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অথচ হত্যাকারীরা এলাকায় নির্ধিদ্বায় ঘুওে বেড়াচ্ছে। সন্তানের হত্যাকারীরা যখন প্রকাশ্যে চোখের সামনে দিয়ে হেঁটে যায়, তখন পিতা হিসেবে মৃত্যুই শ্রেয় মনে হয়। সন্তানহারা এক বাবার ব্যাথা কেবল আমিই হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে একটাই প্রত্যাশা ছেলেকে ফিওে পাবো না জানি, এরপরও হত্যাকা-ে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের মুখোমুখি করে ফাঁসির দাবি করছি। এ জন্য সরকার ও প্রশাসনের সর্ব মহলের সহযোগীতা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ

ই-মেইল :Sundaysylhet@Gmail.Com
মোবাইল : ০১৭১১-৩৩৪২৪৩ / ০১৭৪০-৯১৫৪৫২ / ০১৭৪২-৩৪৬২৪৪
Designed by ওয়েব হোম বিডি