চৌহাট্টায় গাড়ির অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে বাধা, ত্রিমূখী সংঘর্ষ, অস্ত্রসহ ১জন আটক

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

চৌহাট্টায় গাড়ির অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে বাধা, ত্রিমূখী সংঘর্ষ, অস্ত্রসহ ১জন আটক

সানডেসিলেট ডেস্কঃ সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় সিসিকের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে চৌহাট্টা এলাকাস্থ ফুটপাতে গড়ে উঠা  মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন মেয়র ও সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসময় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের উপরও হামলা করে পরিবহন শ্রমিকরা। সংঘর্ষে কাউন্সিলর-পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ অস্ত্রসহ ফাহাদ নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে।

 

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় সিসিক ফুটপাতে অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ  করতে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা এতে বাঁধা দিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে।

 

সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ট্রাফিক পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। এসময় উত্তেজিত শ্রমিকরা সিসিকের শ্রমিকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করলে সিসিকের শ্রমিকরাও পাল্টা হামলা চালায়।

 

আধঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশকে ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ফয়সল আহমদ ফাহাদ (৩৮) নামে এক পরিবহন শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা অনেকটা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পরিবহন শ্রমিকদের হামলার পর  সিসিকের কর্মীরাও পাল্টা হামলা চালায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে পুলিশের উপরও হামলা চালায় শ্রমিকরা। এসময় অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাংচুর করা হয়। এবং চৌহাট্টা-আম্বরখানা, চৌহাট্টা-রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা-মিরবক্সটুলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

 

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ বলেন, পুলিশ আধঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়া হয়। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ফয়সল আহমদ ফাহাদ (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

 

সিলেট জেলা বাস মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন বলেন, সিসিকের একাধিক বৈঠকে আমাদেরকে বলা হয়েছে গাড়ি রাখার জন্য জায়গা দেয়া হবে। কিন্তু সিসিক তাদের কথা না রেখে আমাদেরকে সরিয়ে দিতে চাইছে। চৌহাট্টাস্থ মাজার সংলগ্ন কিছু জায়গা আছে সেগুলো আমাদেরকে দেয়ার দাবি জানালেও তারা আমাদের দাবি মানছেন না। উল্টো আমাদেরকে সরিয়ে দিতে চাইছেন। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন করে যাবো।

 

মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার ফয়সল মাহমুদ বলেন, সরকারি রাস্তা দখল করে যানবাহন রাখা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু সম্প্রতি সিসিকের উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় চৌহাট্টাস্থ এলাকার অবৈধ পরিবহন স্ট্যান্ড সরানোর জন্য বলা হলেও শ্রমিকরা যানবাহন না সরিয়ে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এক পর্যায়ে সিসিকের শ্রমিক ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ