ঈদযাত্রায় ৩১৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৩ জন নিহত

প্রকাশিত: ৩:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২১

 ঈদযাত্রায় ৩১৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৩ জন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময়ে যাতায়াতে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩১৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৩ জন নিহত ৬২২ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিতভাবে ৩২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৩১ জন নিহত ও ৭২২ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সমিতির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

রবিবার(২৩মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২১ এ তথ্য তুলে ধরেন।

 

সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতি বছরের ন্যায় এবারো প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদ কেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনটি ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানীর বিষয়টি দীর্ঘদিন যাবত পর্যবেক্ষণ করে আসছে।

 

লকডাউনের কারণে মানুষের যাতায়াত সীমিত হলেও গণপরিহন বন্ধ থাকার সুযোগে সড়কে ব্যক্তিগতযান বিশেষ করে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা-ব্যাটারীচালিত রিক্সা, ট্রাক-পিকআপ ও কাভাডভ্যানে গাদাগাদি করে যাতায়াতের কারণে এবারের ঈদে সড়কে দুঘটনা ও প্রাণহাণি দুটোই বেড়েছে। ঈদযাত্রা শুরুর  দিন গত ৭ মে থেকে ঈদ শেষে কমস্থলে ফেরা ২১ মে পর্যন্ত বিগত ১৫ দিনে ৩১৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৩ জন নিহত ৬২২ জন আহত হয়েছে। উল্লেখিত সময়ে রেলপথে ০২টি ঘটনায় ০২ জন নিহত হয়েছে। নৌ-পথে ০৩টি দুর্ঘটনায় ০৬জন নিহত ও ১০০ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে যৌথভাবে ৩২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৩১ জন নিহত ও ৭২২ জন আহত হয়েছে।

 

 

দেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শিকার করে লকডাউনের মতো কঠিন কর্মসূচী ও বিপুল অর্থ খরচ করে ও বিশাল কর্মযজ্ঞের কারণে একই সময়ে করোনার ভয়াল থাবা প্রতিরোধ করে সংক্রমণে মৃত্যু ৫১৪ জনের মধ্যে সীমিত রাখতে সক্ষম হয়েছে। অথচ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় সমসংখ্যক প্রাণহাণি ও ক্ষয়ক্ষতি হলেও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কোন কর্মসূচী বা অর্থ বরাদ্ধের লেশমাত্র ছিল না।

 

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১৪৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত, ১৯৯ জন আহত  হয়েছে। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৫.২৮ শতাংশ, নিহতের ৪৩.০৩ শতাংশ এবং আহতের ৩১.৯৯ শতাংশ প্রায়।

 

এই সময় সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ১৫১ জন চালক, ৮০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৭৯ জন পথচারী, ৬৩ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ১৫ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন সাংবাদিক, ১০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ০৯ জন শিক্ষক, ০৮ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ০৪ জন চিকিৎসক, ০২ জন আইনজীবী এবং ০১ জন প্রকৌশলীর পরিচয় মিলেছে।

 

এর মধ্যে নিহত হয়েছে ০১ জন পুলিশ সদস্য, ০২ জন র‌্যাব সদস্য , ০১ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ০২ জন বিজিবি,  ৩৫ জন নারী, ০৩ জন চিকিৎসক, ২২ জন শিশু , ১৩ জন শিক্ষার্থী, ০৭ জন শিক্ষক, ৯৬ জন চালক, ৩১ জন পরিবহন শ্রমিক, ০১ জন প্রকৌশলী, ৬৯ জন পথচারী, ০২ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

 

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক দৈনিক ও অনলাইন দৈনিক এ প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

 

সংগঠিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ৩৬.৯৮ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২.৩৭ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান-লরি, ১৩.২৪ শতাংশ কার-মাইক্রো-জিপ, ৭.৫৩ শতাংশ নছিমন-করিমন-ট্রাক্টর-লেগুনা-মাহিন্দ্রা, ৭.০৭ শতাংশ অটোরিক্সা, ৬.৮৪ শতাংশ ব্যাটারী রিক্সা-ইজিবাইক-ভ্যান-সাইকেল, ও ৫.৯৩ শতাংশ বাস এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।
 

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩২.৩৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪০.৮৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২.৩২ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.১৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১.২৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে সংঘটিত হয়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, লকডাউনে দেশে গণপরিবহন বন্ধ ও মানুষের যাতায়াত অত্যন্ত সীমিত থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, সড়কে নিরাপত্তার দায়িত্বরত প্রতিষ্ঠানগুলো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করার ফলে মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ মানুষের যাতায়াতে এত বেশি সংখ্যক দুর্ঘটনা ও প্রানহানির ঘটনা ঘটেছে। তিনি সড়ক দুর্ঘটনাকে মহামারী করোনাভাইরাসের মত গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান।

 

 

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আব্দুল হক বলেন, গাড়ির ফিটনেস ও অন্যান্য সেবাসমূহ নিতে গিয়ে বিআরটিএ-তে অস্বাভাবিক হয়রানি ও ঘুষবাণিজ্যের শিকার হচ্ছে গাড়ির মালিকগণ। ফলে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বাড়ছে, ঘটছে দুর্ঘটনা।

 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, দুর পাল্লার বাস বন্ধ করে যে যেখানে আছে সেখানে ঈদ করবে এটি সঠিক সিদ্ধান্ত থাকলেও বাস্তবায়নে নানা জটিলতায় কিছু মানুষের বাড়ি যাওয়া অত্যন্ত ভোগান্তির পোহাতে হয়েছে। যারা রাস্তায় নেমেছিল তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌছাতে সরকারের দায়িত্ব ছিল।

 

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক লিটন, যুগ্ন মহাসচিব মনিরুল হক, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ