ইসরায়েলে বিদায়ের ঘণ্টা বাজছে নেতানিয়াহুর

প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২১

ইসরায়েলে বিদায়ের ঘণ্টা বাজছে নেতানিয়াহুর

সানডেসিলেট:: দুই বছরের মধ্যে চারবার জাতীয় নির্বাচন হওয়ার পরও ইসরায়েলের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে এবার নতুন মোড় দেখা যাচ্ছে। গতকাল রবিবার নেতানিয়াহুর বিরোধী শক্তি রাজনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আর তা সফল হলে ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিদায়ের ঘণ্টা বাজবে। খবর বিবিসি ও হারেৎজ।

 

 

রেকর্ড সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার পর ইসরায়েলে শেষ হতে যাচ্ছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুগের। ইসরায়েলের বিরোধী নেতা জোটগত ভাবে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে নেতানিয়াহুর বিদায়ও।

 

 

নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য বুধবার পর্যন্ত সময় হাতে পাবেন ইয়াইর লাপিদ। তিনি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে তা হবে দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা নেতানিয়াহুর ক্ষমতার অবসান।

 

 

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, বিরোধী নেতা লিপিদ সরকার গঠনে সক্ষম একটি জোট গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন। উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা নাফতালি বেনেটের সঙ্গে চুক্তিও প্রায় করে ফেলেছেন। বেনেটের দল ইয়ামিনা পার্টির পার্লামেন্টে ছয় আসন আছে।

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন রয়েছেন। গত মার্চে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হন তিনি। এটা ছিল গত দুই বছরে দেশটিতে চতুর্থ নির্বাচন যেখানে জোট গঠনে মিত্র পেতে ব্যর্থ হন তিনি।

 

রোববার নেতানিয়াহু বলেন, ‘বামপন্থী কোনো সরকার গঠন করবেন না- এ ধরনের সরকার ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক হবে।’

 

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন রয়েছেন। গত মার্চে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হন তিনি। এটা ছিল গত দুই বছরে দেশটিতে চতুর্থ নির্বাচন যেখানে জোট গঠনে মিত্র পেতে ব্যর্থ হন তিনি।

 

রোববার নেতানিয়াহু বলেন, ‘বামপন্থী কোনো সরকার গঠন করবেন না- এ ধরনের সরকার ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক হবে।’

৭১ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ১২ বছর ধরে দেশটির শাসন ক্ষমতায় রয়েছেন এবং একটি প্রজন্ম ধরে তিনি ইসরায়েলি রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন। তবে বামপন্থী কোনো সরকার শাসন ক্ষমতায় এলে ইসরায়েলের কি বিপদ হবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

নাফতালি বেনেটের বিরুদ্ধে ‘জনগণকে ভুল পথে চালিত করা’ এবং ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় জালিয়াতি’ করার অভিযোগ এনেছেন নেতানিয়াহু। এর আগে এক টেলিভিশন ভাষণে ৪৯ বছর বয়সী বেনেট ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন যে, জোট গঠন করতে তার দল আলোচনায় অংশ নেবে।

 

 

বেনেট বলছেন, ‘নেতানিয়াহু কোনো ডানপন্থী দল গঠন করার চেষ্টা করছেন না কারণ তিনি ভালো ভাবেই জানেন যে সেটা সম্ভব নয়। তিনি পুরো জাতি, পুরো দেশ তার নিজের ব্যক্তিগত অবস্থান পোক্ত করার জন্য পেতে চাইছেন। আমার বন্ধু ইয়াইর লাপিদের সঙ্গে একটি জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সরকার গঠনের জন্য সবকিছু করবো।’

 

এই ঘোষণার আগে, ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানায়, জোটের শর্ত অনুযায়ী, বেনেট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর জায়গা নেবেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর ৫৭ বছর বয়সী লাপিদকে সে জায়গা ছেড়ে দেবেন। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো চুক্তি করা হয়নি।

 

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের খবরে বলা হয়, বেনেত বলেছেন তিনি নেতানিয়াহু ছাড়াই সরকার গঠন করবেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার গঠন করা আমাদের স্বপ্ন কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হলো এটি কীভাবে কার্যকর থাকবে। এ দুই দলের জোট সরকার কার্যকর হলে নেতানিয়াহুর যুগ অবসান হবে এ কথা ঠিক কিন্তু তার আগে আরও কিছু জটিল হিসাব-বিকাশ রয়েছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন।

 

গতকালই তার দল লিকুদ পার্টি এক বিবৃতিতে প্রস্তাব দিয়েছে, বিরোধী দলের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর পদে নেতৃত্ব দেওয়ার। এ ছাড়া ইয়ামিনা দলের প্রধান নাফতালি বেনেতকে হুশিয়ারি দিয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, যে কোনো মূল্যে প্রধানমন্ত্রিত্ব রাখবেন তিনি। লিকুদ পার্টির ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এ জোটকে সমর্থন করলে বেনেত তার ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। অন্যদিকে বেনেত জোটের বৈঠক গতকালই শেষ করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। বৈঠক শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ছাড়াই তারা সরকার গঠন করবেন।

 

প্রস্তাবিত জোট সরকারে ইসরায়েলি রাজনীতির ডান, বাম এবং মধ্যপন্থী- সবারই সন্নিবেশ ঘটবে। এই দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতৈক্য না থাকলেও তারা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে একমত।

 

নেতানিয়াহু জোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হওয়ার পর সাবেক অর্থমন্ত্রী লাপিদকে ২ জুন পর্যন্ত নতুন সরকার গঠনের সময় দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনে তার ইয়েশ আতিদ পার্টি দ্বিতীয় অবস্থানে আসে। প্রথম অবস্থানে ছিল নেতানিয়াহুর ডানপন্থী দল লিকুদ পার্টি।

১২০ আসনের পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ৬টি আসন পেয়েছে বেনেটের দল। যা প্রস্তাবিত বিরোধী জোট গঠনে নিশ্চিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিতে সক্ষম। শনিবার রাতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি বেনেট এবং আরও একটি নেতাকে জোট গঠনের প্রস্তাব দেয়। যাতে করে পালাক্রমে তিনজনই প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। তবে তার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি নেতারা। রোববারও একই প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি।

 

ইসরায়েলের নির্বাচন পদ্ধতি অনুযায়ী, সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার শর্ত থাকায় কোনো একটি দলের পক্ষে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন লাভ করা সম্ভব নয়। জোট সরকার গঠনের জন্য ছোট ছোট দলগুলোকেও দরকার হয়।

 

৭১ বছর বয়সী নেতানিয়াহু ১২ বছর ধরে দেশটির শাসন ক্ষমতায় রয়েছেন এবং একটি প্রজন্ম ধরে তিনি ইসরায়েলি রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন। তবে বামপন্থী কোনো সরকার শাসন ক্ষমতায় এলে ইসরায়েলের কি বিপদ হবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

 

পূর্বপশ্চিমবিডি/সানডেসিলেট

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ