আ. লীগ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে:: শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২১

আ. লীগ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে:: শেখ হাসিনা

সানডেসিলেট:: আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (২২ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়েতে মৎস্যজীবী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গনভবন থেকে ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

এসময় যুবসমাজের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে মৎস্য উদ্যোক্তা হোন।

তিনি বলেন, সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই এবং জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

 

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেই মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে গেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিলো বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। আমরা ৯৬ সালে যখন সরকারে আসি, ৯৮ সালেই বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলি।

 

দ্বিতীয়বার যখন সরকারে আসি তখনও আমাদের লক্ষ্য পুরণ করি এবং যখন খাদ্য নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করি সাথে সাথে খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টিটা যাতে যোগ হয় সে ব্যবস্থাও আমরা নিই।’

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিকে আমরা লক্ষ্য রেখে ৯৬ সালেও সচেষ্ট হই এবং পরবর্তীতেও যখন আমি দ্বিতীয়বার সরকারে তখনও আমাদের যুব সমাজকে ট্রেনিং দেয়া, সুযোগ সৃষ্টি করা, জলাধারগুলি সংস্কার করা, মাছ উৎপাদন যাতে বৃদ্ধি পায় তার ব্যবস্থা নেয়া, এর উপরে যাতে গবেষণা হয় সে ব্যবস্থা করা, গবেষণা করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, কৃত্রিম প্রজননের ব্যবস্থা করা যাতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

 

‘খাদ্য তালিকায় সবচেয়ে নিরাপদ পুষ্টি আমাদের মাছই দেয়। একটা মানুষ যদি ৬০ গ্রাম মাছ খেতে পারে তবে তা তার জন্য যথেষ্ট। আমরা সেখানে মাথাপিছু অন্তত ৬২ গ্রাম পর্যন্ত উন্নীত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেই সাথে সাথে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হচ্ছে।’

 

 

মৎস উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপও তুলে ধরেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নদী নালা খাল বিলের দেশ। বাংলাদেশে শত শত নদী রয়েছে। তার উপর আমাদের যত খাল বিল বা জলাধার, আমরা ইতিমধ্যে সেগুলো সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছি। সেখানে যাতে আরও বেশি পরিমাণে মাছ উৎপাদন হয় তার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। আমাদের মাছের উৎপাদন যেখানে ২৭ লাখ মেট্রিক টন ছিল, সেখানে আমরা এখন প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি উৎপাদন করা শুরু করেছি। সেই সঙ্গে আমাদের খাদ্য তালিকাতেও মাছ… আর ইলিশ উৎপাদনে আমরা কিন্তু এখন পৃথিবীতে এক নম্বর দেশ। যে কোনো কারনেই হোক আমরা ইলিশ উৎপাদনে ব্যাপক পদক্ষেপ নিই।’

 

 

তিনি বলেন, ‘মাছের প্রজননের সময় আমরা মৎসজীবীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে থাকি। তাদের খাদ্য সহায়তা দেই। প্রত্যেককে আমরা প্রতি মাসে বিনা পয়সায় খাদ্য দিয়ে থাকি। চাল দিয়ে থাকি। সেই সঙ্গে ঝাঁকায় করে মাছের চাষ, সে ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকি যাতে আমাদের মৎসজীবীরা যেন কোনো রকম কষ্ট না পায় সে দিকেও আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছি।’

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে মাছ উৎপাদনে আমরা বিশেষ যত্ন নিচ্ছি, এ কারণে আমরা খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়াতে এখন কিন্তু মানুষ আর অপু্ষ্টিতে ভুগছে না। সে সাথে আমি একটা অনুরোধ করব খাদ্য তালিকাতেও শুধু ভাত খাওয়াই না সেই সাথে বেশি করে মাছ, সবজি তরি-তরকারি, ফলমুলও খেতে হবে। পুষ্টিগুণটা যাতে খাবারে থাকে তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

 

 

মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি সায়ীদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য শাহাবুদ্দীন ফরাজী, এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার এবং মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর নস্কর।

 

 

সৌজন্যে: পূর্বপশ্চিমবিডি/সানডেসিলেট/রাই

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ