স্পেশাল

আলুর দামে রেকর্ড আলুভর্তাও নাগালছাড়া

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

আলুর দামে রেকর্ড  আলুভর্তাও নাগালছাড়া

সানডে সিলেট ডেস্ক

দুটি সেদ্ধ আলু। সঙ্গে দু-তিনটি কাঁচা মরিচ, কিছু পেঁয়াজকুচি আর একটু শর্ষের তেল। ঠিকমতো মিশিয়ে নিলেই উপাদেয় খাবার—আলুভর্তা।

তৈরি করা সহজ, খরচও কম ছিল। তাই আলুভর্তার জনপ্রিয়তায় কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু এখন সীমিত আয়ের মানুষের অনেকটাই নাগালছাড়া হয়ে গেছে আলু।

ঢাকার বাজারে এখন ১ কেজি আলুর দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, গত বছরের এ সময়ের তুলনায় আলুর দাম দ্বিগুণ। আর হিমাগারের মালিক ও আলু ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাঁরা এত দাম কখনো দেখেননি।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) দুই দশকের আলুর দামের একটি হিসাব দেখে নেওয়া যাক। ক্যাব বলছে, ২০০০ সালে ঢাকায় ১ কেজি আলুর গড় দাম ছিল ১০ টাকা। ৫ বছর পর সেটা সাড়ে ১০ টাকা হয়। ২০১০ সালে আলু ২১ টাকা, ২০১৫ সালে ৩১ টাকায় দাঁড়ায়। আর সর্বশেষ গত সোমবার আলুর দাম দাঁড়ায় ৫৫ টাকা।

দরিদ্রদের অনেকে সকালে আলুভর্তা, ডাল আর ভাত খেয়ে কাজে যান। মধ্যম আয়ের পরিবারে দুপুরে রান্না করা তরকারিতে টান পড়লে আলুভর্তা করে সামাল দেওয়া হয়। বাজারে এখন ১ কেজি কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকা। ১ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। শর্ষের তেলের লিটার ২০০ টাকার বেশি। ফলে আলুভর্তাও এখন অভিজাত খাবার হয়ে গেছে।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে ফুটপাতে ভাত বিক্রি করেন সেলিনা খাতুন। তাঁর ক্রেতা মূলত রিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গিয়ে দেখা গেল, তরকারির পদ থেকে আলুভর্তা অনুপস্থিত। কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, একদলা আলুভর্তা তিনি ১০ টাকায় বিক্রি করতেন। আলুর যা দাম, তাতে বিক্রি করে কোনো লাভ হয় না।

বাজারে নতুন আলু আসবে আগামী ডিসেম্বরের শেষে। শুরুতে নতুন আলুর চড়া দাম থাকে। নাগালে আসে মূলত জানুয়ারিতে। ফলে পুরোনো আলু দিয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, গত মৌসুমে ১ কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। গত বছরের চেয়ে ১ লাখ টন বেশি। অবশ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে উৎপাদন আরও কম। তাদের হিসাবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আলু উৎপাদিত হয়েছিল সাড়ে ৯৬ লাখ টন। বিবিএসের গত মৌসুমের হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

দেশে বছরে আলুর চাহিদা ৮০ লাখ টন। এত উৎপাদনে ঘাটতি না হওয়ার পরও দাম এতটা বেড়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে ব্যবসায়ী ও হিমাগারের মালিকেরা তিনটি যুক্তি দেখাচ্ছেন। এক. এ বছর করোনা ও বন্যায় ত্রাণ হিসেবে বিপুল আলু বিতরণ করা হয়েছে। দুই. বাজারে অন্যান্য সবজির দাম বেশি। তাই আলুর চাহিদা বেশি। ৩. রপ্তানি বেড়েছে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে ১ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের আলু রপ্তানি হয়েছে। গত বছর একই সময়ে রপ্তানি ছিল ৯ লাখ ডলারের কিছু বেশি। উল্লেখ্য, ভারত ও নেপালে আলুর দাম চড়া।

হিমাগারে আলু মোটামুটি ভালোই আছে। তবে প্রয়োজন আলু বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো। অনেক ব্যবসায়ী আরও লাভের আশায় আলু ছাড়তে চাইছেন না।

হিমাগার থেকে এখন যে আলু বের হচ্ছে, তা গত মার্চে রাখা। মুন্সিগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, তখন প্রতি কেজি আলু ১০ টাকা কেনা পড়েছে। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ, হিমাগারভাড়া, বস্তার খরচ, শ্রমিকের মজুরি যোগ হয়ে এক কেজি আলুর পেছনে ব্যয় দাঁড়ায় ১৬ টাকা। সেই আলু এখন ঢাকায় পাইকারি দোকানে ৪২ থেকে ৪৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

বাড়তি দাম পেয়ে হিমাগারের মালিক, ফড়িয়া ও চাষিরা খুশি। যেমন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার নব্দীগঞ্জ এলাকার আলুচাষি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে আলুর কোনো দাম পাইনি। এবার একটু দাম পাওয়া গেল।’

সরকার টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। আলু নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। তাহলে দাম নিয়ন্ত্রণের উপায় কী, কারওয়ান বাজারের আলুর আড়তের বিক্রেতা মুসলেহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, হিমাগারে আলু মোটামুটি ভালোই আছে। তবে প্রয়োজন আলু বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো। অনেক ব্যবসায়ী আরও লাভের আশায় আলু ছাড়তে চাইছেন না।

সুত্র প্রথম আলো

সংবাদটি শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ

ই-মেইল :Sundaysylhet@Gmail.Com
মোবাইল : ০১৭১১-৩৩৪২৪৩ / ০১৭৪০-৯১৫৪৫২ / ০১৭৪২-৩৪৬২৪৪
Designed by ওয়েব হোম বিডি