Home » শীর্ষ সংবাদ » একাত্তরের জননী রমা চৌধুরীকে গার্ড অব অনার
একাত্তরের জননী রমা চৌধুরীকে গার্ড অব অনার

একাত্তরের জননী রমা চৌধুরীকে গার্ড অব অনার

সানডে সিলেট ডেস্ক : সোমবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ : একাত্তরের জননী খ্যাত বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরীকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রীভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রমা চৌধুরীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে নিয়ে গেলে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রমা চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগরের কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, লেখক ও শহীদজায়া মুশতারি শফী, মুক্তিযোদ্ধা অমল মিত্র, অধ্যক্ষ রীতা দত্ত, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, ভারপ্রাপ্ত সিটি মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

চট্টগ্রামের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আহমেদ ইকবাল হায়দার জানান, শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রমা চৌধুরীর মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালীতে সমাহিত করা হবে।

উল্লেখ্য, সোমবার ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মারা যান একাত্তরের বীরাঙ্গনা ও জননীখ্যাত রমা চৌধুরী।

রমা চৌধুরী ১৯৩৬ সালের সালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার পোপাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৬২ সালে কক্সবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর কর্মজীবন। দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন।

রমা চৌধুরীর সংসার ছিল চার ছেলে সাগর, টগর, জহর এবং দীপংকরকে নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর গুলিতে দুই ছেলে নিহত ছাড়াও শারীরিক নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন তিনি। তার ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তবু জীবনযুদ্ধে হার মানেননি এ বীরাঙ্গনা। শুরু করেন নতুনভাবে পথচলা।

লেখিকা হিসেবেও যথেষ্ট খ্যাতি পেয়েছেন রমা চৌধুরী। এ পর্যন্ত তিনি ১৮টি বই লিখেছেন। কোমরের আঘাত, গলব্লাডার স্টোন, ডায়াবেটিস, অ্যাজমাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রমা চৌধুরীকে। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আজীবন সংগ্রামী এই বীরাঙ্গনার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চট্টগ্রামসহ দেশের সর্বত্র।



সংবাদটি 57 বার পঠিত :::: সংবাদটি ভাল লাগলে লাইক বাটনে ক্লিক করুন
Spread the love
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares
  •  
    3
    Shares
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*