Home » জাতীয় » যুদ্ধ শেষে টেলিফোনে বাবার কণ্ঠ শোনার অনুভূতি বর্ণনাতীত: হাসিনা
যুদ্ধ শেষে টেলিফোনে বাবার কণ্ঠ শোনার অনুভূতি বর্ণনাতীত: হাসিনা

যুদ্ধ শেষে টেলিফোনে বাবার কণ্ঠ শোনার অনুভূতি বর্ণনাতীত: হাসিনা

সানডে সিলেট ডেস্ক : বুধবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৮ : পঁচিশে মার্চ মধ্যরাতে বন্দি হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরও তিনি জীবিত না মৃত সেই খবর ছিল না- প্রায় সাড়ে নয় মাস পর লন্ডন থেকে টেলিফোনে যখন তিনি কথা বলেন, সেই সময় কী অনুভূতি হয়েছিল তা ভাষায় বর্ণনার অতীত বলে জানালেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ৮ জানুয়ারি লন্ডন পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিব। দুদিন পর দেশে ফেরেন তিনি।

১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বুধবার আওয়ামী লীগের আলোচনায় সভায় উৎকণ্ঠায় ভরা সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আমরা খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমার বাবাকে গ্রেপ্তারের পর আমার মাকে গ্রেপ্তার করে। সেখানে জামাল (শেখ জামাল), রেহানা (শেখ রেহানা), রাসেল, আমি, আমরা সকলেই বন্দি হই। ১৮ নম্বরের (ধানমন্ডির তৎকালীন ১৮ নম্বর সড়ক) একটি বাড়িতে আমাদের বন্দি করে রাখা হয়। আমরা তখন কোনো খবরই জানি না, তিনি বেঁচে আছেন না মারা গেছেন, কী অবস্থায় আছেন।”

প্রায় সাড়ে নয় মাস পর টেলিফোনে বাবার কণ্ঠ শুনতে পাওয়ার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “৮ তারিখে যখন লন্ডন থেকে প্রথম টেলিফোন আসে এবং বিবিসিতে খবর পাই, সেই মুহূর্তটা যে আমাদের জন্য কী ছিল! সেটা আমি ভাষায় বর্ণনা করতে পারব না। আমরা ফোনে কথা বলতে পারি নাই। ওই হ্যালো, আব্বা…এইটুকুই বোধ হয়, এর বেশি কোনো কথা বলা সম্ভব ছিল না তখন আমাদের পক্ষে। এমনই একটা অবস্থা আমাদের ছিল।

“তখন শুধু অপেক্ষার পালা কখন তিনি ফিরে আসবেন। তিনি ১০ তারিখে ফিরে এলেন। ফিরে এসে গেলেন কাদের কাছে? তার প্রিয় জনগণের কাছে।”

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু সোজা চলে যান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

শেখ হাসিনা বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, কোন নীতিতে চলবে, কী তার লক্ষ্য, কীভাবে এই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে; তার দিক নির্দেশনা তিনি দিয়েছিলেন।”

বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসা নিয়ে সদ্য বিজয়ী জনতার উৎকন্ঠার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রতিটি মানুষ আশা নিয়ে আকাঙ্খা নিয়ে বসেছিল, কী হবে? তাদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে ফিরে পাবেন কি না।”

১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর ফিরে আসার মধ্য দিয়ে ‘আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছিল’ বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি বলেন, “সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে যখন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং যার সুফল বাংলার জনগণ পেতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই ’৭৫-এর ১৫ অগাস্ট ঘাতকরা আঘাত হানল।”

হত্যার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করা হলেও তিনি কখনোই তা আমলে নেননি বলে জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা হাসিনা।

“তিনি কখনও বিশ্বাস করতেন না যে, বাংলাদেশের মানুষ তার উপরে আঘাত হানতে পারে। অনেক আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ তাকে সাবধান করেছিলেন। অনেক খবরই আসত। তিনি বিশ্বাস করতেন না। বলতেন, না, এরা আমার ছেলের মতো, আমার সন্তানের মতো, ওরা আমাকে কেন মারতে যাবে? কিন্তু সেই বিশ্বাস রাখতে পারেননি।”

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিকালে এই আলোচনা সভায় বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান ইতিহাসের অধ্যাপক মুনতাসির মামুন।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হচ্ছে, তা থাকবে না যদি না জাতি ঐক্যবদ্ধ না হয়। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যারা নিজেদের দলটির নেতা-কর্মী বলে পরিচয় দিচ্ছেন, তাদের সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে এই অধ্যাপক বলেন, “পাঁচ বছরের জন্য অনেকে আওয়ামী লীগের নেতা হয়েছেন, পাঁচ বছরে অনেকে আওয়ামী লীগের কর্মী হয়েছেন। এর অবসান হওয়া উচিত।”

আওয়ামী লীগের অন্তর্কলহের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে হারলে আওয়ামী লীগের জন্যই হারবে। আপনারা সকলেই জানেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা না থাকলে এই পাঁচ বছরের নেতা-কর্মীরা থাকবেন না। রাজনীতি ও আমলাতন্ত্র সকল ক্ষেত্রেই এরা বিরাজমান। প্রধানমন্ত্রীকে দেখে স্লোগান দিয়ে বাইরে যদি উচ্ছ্বাস না দেখি তাহলে হবে না। ষড়যন্ত্র আজকেও হচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারী আমাদের মধ্যেই আছে।”

খুলনায় মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর প্রতিষ্ঠায় সরকারি কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করে মুনতাসির মামুন বলেন, “দুজন কমিশনার আমাকে নাস্তানাবুদ করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফাইল যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উনি সই করে দেন।”

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও মোশাররফ হোসেন, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মারুফা আক্তার পপি ও রেমং আড়েং, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এবং দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ উপস্থিত ছিলেন।



সংবাদটি 106 বার পঠিত :::: সংবাদটি ভাল লাগলে লাইক বাটনে ক্লিক করুন
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*